মহালয়া আজ : ২২ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজা

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৭:১৮ এএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর)। শ্রীশ্রী চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত। শারদীয় দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এই মহালয়া। পুরাণমতে, এদিনই মর্ত্যে দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। এদিন থেকেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়। আর এ দিনেই দেবীর চক্ষুদান করা হয়। 

মহালয়ার আর একটি দিক হচ্ছে- এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা তাদের পূর্বপুরুষের স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। শ্রী রামচন্দ্র লঙ্কাজয়ের আগে এমনটা করেছিলেন। সেখান থেকেই আসে তর্পণের ভাবনা। সনাতন ধর্ম অনুসারে, এই দিনে প্রয়াতদের আত্মা মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আত্মার এই সমাবেশকে মহালয়া বলা হয়। পিতৃপক্ষেরও শেষদিন এটি। পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনার সন্ধিক্ষণই মহালয়া। 

তবে এবার পিতৃপক্ষ শেষ হওয়ার ৩৫ দিন পর দেবীপক্ষ শুরু হবে। সে কারণে মহালয়ার ৩৫ দিন পর আগামী ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে এবার শুরু হবে দুর্গাপূজা। এর আগে সর্বশেষ এমনটা ঘটেছিল ১৯৮২ সালে। তিন যুগেরও বেশি সময় পর এবার আবারও এই ঘটনা ঘটছে। 

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে চতুর্মাস শুরু হয়েছে। শাস্ত্রমতে, দেবশয়নী একাদশী থেকে শুরু করে দেবপ্রবোধিনী একাদশী পর্যন্ত সময়কালকে চতুর্মাস বলা হয়। এই চার মাসে বিবাহসংস্কার, গৃহ প্রবেশ ইত্যাদি কোনও ধরনের মাঙ্গলিক কাজ নিষিদ্ধ। দেবোত্থান একাদশীর সঙ্গে শুভ কাজ আবারও শুরু করা যাবে। যার কারণে সমস্ত পূজাপার্বণ প্রায় এক মাস দেরিতে শুরু হবে। 

হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার পিতৃপক্ষ শেষ হওয়ার পরই আশ্বিন মাসের অধিকমাস বা মলমাস শুরু হবে। যার ফলে দেবীপ¶ শুরু হতে দেরি হবে ২০ থেকে ২৫ দিন। ফলে দুর্গাপূজার সঙ্গে সঙ্গে এবার পিছিয়ে যাবে লক্ষ্মীপূজা ও কালীপূজাও। পঞ্জিকা অনুযায়ী, অধিকমাস সকল পবিত্র কার্যবর্জিত। এই পুরো মাসে কোনও সূর্য সংক্রান্তি না থাকায় এই মাসটি মলিন হয়ে যায় বলে মনে করা হয়। যার কারণে একে মলমাসও বলা হয়। আবার প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী একই মাসে দুটি অমাবস্যাকেও মলমাসের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়।

ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মন্ডল দৈনিক করতোয়াকে বলেন, এবার মহালয়া হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। এবার আশ্বিন মাস মল মাস, মানে অশুভ মাস। এ মাসে পূজা হচ্ছে না তাই। পূজা হবে কার্তিক মাসে। মহালয়ার ৩৫ দিন পরে দেবী দুর্গা আসবেন মর্ত্যে। মহালয়ার এক মাসের বেশি সময় পর দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে বলেন, এক মাসে দুটি অমাবস্যা পড়লে সেই মাসটি আমরা অশুদ্ধ মাস হিসেবে মনে করি। একে মলমাস বলা হয়। এই আশ্বিন মাস হলো মলমাস। মলমাসে কোনও প্রকার ধর্মীয় কার্যক্রম হয় না। কারণ এ মাসটি অশুদ্ধ। যার কারণে এবারের পিতৃপক্ষ শেষ হওয়ার ৩৫ দিন পর দেবীপক্ষ শুরু হবে।

এদিকে শুভ মহালয়া উপলক্ষে আজ বিভিন্ন মন্দির ও পূজা কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। ভোর ছয়টায় মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠান হবে। চন্ডীপাঠ ও ভক্তিমূলক সংগীত দিয়ে দেবীকে স্মরণ করা হবে। এরপর সকাল নয়টায় মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শেষে করোনা থেকে মুক্তি, দেশ-জাতি ও বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। 

এ বছর দেবী দুর্গা আসবেন দোলায় চড়ে এবং বিদায় নেবেন গজে বা হাতিতে চড়ে। আগামী ২৬ অক্টোবর মহাদশমীর মাধ্যমে শেষ হবে দুর্গোৎসবের সব আনুষ্ঠানিকতা।

দোলায় দেবীর আগমন নিয়ে শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ‘দোলায়াং মরকং ভবেৎ’; অর্থাৎ মহামারি, ভূমিকম্প, যুদ্ধ, মন্বন্তর, খরার প্রভাবে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু তো ঘটাবেই, আবার সেই সঙ্গে ক্ষয়-ক্ষতিও হবে। অন্যদিকে দেবীর গজে বা হাতিতে গমন নিয়ে শাস্ত্রে বলা হয়েছে - ‘গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা’ ৷ অর্থাৎ দেবী যদি গজে গমনাগমন করেন-তাহলে পৃথিবীতে জলের সমতা বজায় থাকে এবং শস্য ফলন ভালো হয়, সুখ-সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ থাকে মর্ত্যভূমি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, হাতি হলো দেবী অন্নপূর্ণার বাহন ৷ দেবী দুর্গার অন্যরূপ অন্নপূর্ণা, অন্নপূর্ণার আশীর্বাদে শস্য-শ্যামলা হয়ে ওঠে এই বসুন্ধরা ৷ 

এদিকে বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি নির্দেশনার আলোকে আসন্ন মহালয়া ও দুর্গাপূজা যাতে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২৬ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।