রমজানের শিক্ষা পুরো বছর ধরে রাখা উচিত

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৬:২০ পিএম, ২১ মে ২০২০

মহান আল্লাহ ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর পাঁচটি স্তম্ভে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এর অন্যতম একটি হলো বছরের এক মাস সিয়াম (রমজান) আদায় করা। মহান আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পায় সে যেন এ মাসে সিয়াম আদায় করে (সূরা আল বাক্বারাহ-১৮৫)।

আর রমজান মাসকে তিনিট স্তরে বিন্যাস করা হয়েছে। রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাত। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত লাভের এবং তৃতীয় ১০ দিন জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রাপ্তির। (মিশকাত)।

রমজান মাসের শেষ দশ দিন তথা ২১-৩০ পর্যন্ত সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ অংশে মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর নিহিত রয়েছে। আরা সারা বছরের রজনীর সমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রজনী হলো রমজান মাসের শেষ দশ রজনী। মাহে রমজানের শেষ দশ দিন মহান আল্লাহর নিকট খুবই মর্যাদাপূর্ণ।

রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা তালাশ করো লাইলাতুল কদর রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত্রিসমূহে।

তাই শেষ দশ বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর সন্ধান করা প্রতি মুসলমানদের জন্য কর্তব্য।

শেষ দশ দিনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত হলো ইতেকাফ। আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় খলিল ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাইলকে লক্ষ্য করে বলেন, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকূকারী-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো। (সূরা আল বাক্বারাহ-১২৫)।

মাহে রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতেকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া। যা লাইলাতুল কদর পাওয়ার ক্ষেত্রে খুবই সহায়ক। হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) প্রতিবছর শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করেছেন, আর যে বছর তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন সে বছর বিশ দিন ইতেকাফ করেছেন। (বুখারী)।

শেষ দশ দিনে করণীয়

কালিমায়ে শাহাদাত বেশি করে পাঠ করা, বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করা, জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া, জান্নাতের আশা করা, সাধ্যানুযায়ী অধিক পরিমাণে দান সাদাকাহ করা। রাসূল (সা.) রমজানের শেষ দশ দিনে অধিক পরিমাণে দান করতেন।

এসময় অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করা ও এর মর্ম অনুধাবন করা। রাসূল (সা.) সারাবছর নাজিলকৃত অহি জিবরাইল (আ.)-কে পুরোটা শুনিয়ে নিতেন রমজান মাসে। (বুখারী অহি অধ্যায়)

হযরত আয়েশা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ আমি লাইলাতুল কদরে কোন দোয়া পাঠ করবো। তিনি বললেন, তুমি বলবে, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি (অর্থ- হে আল্লাহ্‌! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করাটা আপনি পছন্দ করেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।

পাশাপাশি রমজানে বর্জনীয় কর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, কলহ বিবাদ পরিহার করা। আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি তোমার সঙ্গে কেউ কলহ বিবাদ করতে আসে তাহলে তুমি তাকে জানিয়ে দাও আমি রোজাদার। আর রোজাদারদের কাজ কলহ বিবাদ নয়। (মিশকাত)।

মিথ্যা কথা ও খারাপ কাজ পরিহার করা। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ পরিহার করতে পারলো না আল্লাহর নিকট তার আহার পানীয় পরিহার করার দরকার নেই (বুখারী)।

লোক দেখানো আমল পরিহার করা। সকল ভালো কাজ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পাদন করা। আল্লাহ বলেন, ধ্বংস ওই সকল সালাত আদায়কারীর জন্য যারা অন্যকে দেখানোর জন্য সালাত আদায় করে।

শুধুমাত্র ইফতারের আয়োজনের পেছনে পড়ে না থাকা। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক আমলের সওয়াব পাওয়া না পাওয়া নির্ভর করে নিয়তের ওপর (বুখারী)।

এছাড়া সিয়াম আদায় করে যত্রতত্র হাটবাজারে ঘুরে না বেড়ানো উত্তম। সিয়াম আদায় করে সারা দিন ঘুমানো, সারাদিন নীরব থাকা, সালাত আদায় না করা, মন্দ ও অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করা, পরনিন্দা করা পরিহার করতে হবে। আল্লাহ বলেন, তোমরা একে অপরের পেছনে দোষ চর্চা করবে না। (সূরা আল হুজুরাত-২)

পরিশেষে আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপরোক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের জীবনকে রমজান মাসের কল্যাণ ও বরকত অর্জনের মাধ্যমে ধন্য করার তাওফিক দিন। সংযম ও সহমর্মিতার গুণ অর্জন করার তাওফিক দিন। একইসঙ্গে জীবন যাপনের ক্ষেত্রে রমজানের শিক্ষা বছরের বাকি ১১ মাস ধরে রাখা জরুরি। আমাদের উচিত ভালো কাজের দিকে অগ্রসর হওয়া মন্দ কাজের ইতি টানা।