গাইবান্ধায় তিন বছরেও বাবা হত্যার বিচার পাননি অসহায় সন্তানরা

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৩, ২০২২, ০৮:২৪ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ১৩, ২০২২, ০৮:২৪ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নে নিহত আকতার হোসেন গাদমের হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হত্যাকারীদের হুমকির মুখে তার দুই ছেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার তিনবছর পরেও সন্তানরা তাদের বাবা হত্যার বিচার পায়নি। গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে গত বুধবার নিহতের দুই সন্তান সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার, হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং তাদের নিরাপত্তার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।   
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের বড় ছেলে নাছির খান উল্লেখ করেন, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ডাকাতিয়া চরের বাসিন্দা তারা। তাদের বাবা আকতার হোসেন গাদমের সাথে একই এলাকার আবদুস ছামাদ ও তার ছেলে হামিদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় আকতার হোসেন গাদম ও তার ভাই বেলাল হোসেন বালাসীঘাট থেকে বাড়ি ফেরার পথে চর চৌমহন এলাকায়  ওৎ পেতে থাকা আবদুস ছামাদ ও তার আত্মীয়-স্বজন চরাঞ্চলের ডাকাত দলের সদস্যদের নিয়ে তাদেরকে ঘিরে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই ভাইকে কোপায়। ঘটনাস্থলেই গাদম মারা যায় এবং তার ভাই বেলাল হোসেন মারাত্মক আহত হয়েও প্রাণে বেঁচে যায়। পরদিন ২৭ নভেম্বর নিহতের ছোট ছেলে তাছির খান বাদী হয়ে ফুলছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইসময় চার আসামি একামত, ছানু, মনির ও মাসুদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে এজাহারনামীয় বেশকয়েকজন আসামিকে বাদ দিয়ে ২০১৯ সালের ২৯ মে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। এতে বাদি নারাজী আবেদন করলে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২২ মার্চ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডির এএসআই আনিছ। তিনিও এজাহারনামীয় মূল আসামিদের বাদ দিয়ে ১৯ জনের নামে ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর চার্জশিট দেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে বাদি আবার নারাজী উত্থাপন করলে আদালত মামলাটির তদন্তে পিবিআইকে নির্দেশ দেন। পিবিআই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট। এরপর দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হলেও হত্যাকারীদের গ্রেফতার বা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেনি পিবিআই। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছেন পিবিআই’র এসআই হুমায়ুন। তার বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতি এবং উল্টো বাদিকে হয়রানির অভিযোগ করা হয়।
এ ব্যাপারে পিবিআইয়ের তদন্তকারি কর্মকর্তা এস.আই হুমায়ুন জানান, তার বিরুদ্ধে বাদির অভিযোগ সত্য নয়। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই মামলার তদন্তের চলছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়