ফুলবাড়ীতে বাঁশের সাঁকোই ভরসা ৩০ হাজার মানুষের

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১১, ২০২২, ০৯:০৮ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ১১, ২০২২, ০৯:০৮ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: সেতু নেই, তাই বাঁশের সাঁকোই ভরসা। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন এ সাঁকো দিয়ে। এটি ফুলবাড়ীর নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বারো মাসিয়া নদীর ওপর নড়োবড়ো সাঁকোর অবস্থা। প্রতিদিন ছয়টি গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ চলাচল করছেন বাঁশের সাঁকো দিয়ে। এতে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে খুদে শিক্ষার্থী ও রোগীরা। এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য চাষাবাদ প্রচুর হলেও সময়মত যোগাযোগের ব্যবস্থা না থাকায় পাচ্ছে না ফসলের ন্যায্যমূল্য। সেখানে সেতু নিমার্ণ করা হলে পাল্টে যাবে ৩০ হাজার মানুষের জীবন যাত্রার মান।
জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বারো মাসিয়া নদীর ওপর নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছে গ্রামের মানুষ। এই সাঁকো দিয়ে ছয়টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ চলাচল করছেন জীবন ঝুঁকি নিয়ে। সাঁকোর পশ্চিম পাড়ে রয়েছে পশ্চিম কান্তাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝাউকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর গোরুকমন্ডপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফয়জুল উলুম মাদ্রাসা, গোরুকমন্ডপ কমিউনিটি ক্লিনিক। পূর্ব পাশে রয়েছে পশ্চিম ফুলমতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাওডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,বালার হা আর্দশ স্কুল এন্ড কলেজ, নাওডাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজ ও পশ্চিম ফুলমতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিক। দু’প্রান্তের গ্রামগুলোর যোগাযোগের সংযোগস্থল হওয়ায় এ সাঁকো দিয়ে হাজারও মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এতে হরহামেশাই ঘটে দুর্ঘটনা। রোগী থাকলে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এ কারণে কান্তাপাড়া, ঝাউকুটি চরগোরুক, পশ্চিম ফুলমতি, জামাকুটি, কলাবাগা গ্রামে ছোয়া লাগেনি ডিজিটাল যুগের হাওয়া। পেঁছিয়ে পড়া মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভাবনা থাকলেও প্রধান বাঁধা এ বারো মাসিয়া ইন্দুর ঘাটের বাঁশের সাঁকো। শুকনো মৌসুমে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী পারাপার হলেও বর্ষা মৌসুমে লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটে তাদের। সময়মত পারাপার করতে না পারায় ব্যবসায়ীরাও  বিপাকে পড়েন অনেক সময়।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হাছেন আলী বলেন, বারোমাসিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ অতি প্রয়োজন। অনেক আগে থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে  কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত কাগজপত্র সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সেতু নির্মাণের চেষ্টা করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আসিক ইকবাল রাজিব বলেন, বারো মাসিয়া নদীর ওপর ৩০ মিটার সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়