পীরগঞ্জে ভোটের ফলাফলকে কেন্দ্রে করে গুলিতে নিহত ৩ জনের মরদেহ হস্তান্তর

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৩ গ্রামবাসীর মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে সোমবার সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাহাবলি ওরফে হুসনে (৩৫) ও মজাহারুল ইসলামের (৪০) মরদেহ রাতেই হাবিবপুর পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে এবং আদিত্যের শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয়েছে ঘিডোব শ্মশান ঘাটে।
এদিকে অজ্ঞাত নামা ৭শ’ গ্রামবাসীর নামে পুলিশ মামলা করায় এলাকায় পুলিশি আতংক বিরাজ করছে। অনেকে বাড়ি ছেড়েছেন। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্রামবাসীকে আতংকিত না হওয়ার জন্য বলেছেন।
এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দিনাজপুরে নিহতদের মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে মাগরিবের আগে মাজাহারুলের পরিবারে কাছে হস্তান্তরের সময় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। চোখের জল মুছতে দেখা যায় আশপাশের লোকজনের। পরে সাহাবলির বাড়িতেও একই রকম দৃশ্যের অবতারণা হয়। সন্ধ্যায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয় আদিত্যের। এখানেও শত শত নারী-পুরুষ ভিড় করে। অনেকেই অশ্রু সিক্ত নয়নে আদিত্যের বাড়ি ত্যাগ করেন। এর আগে সকালে নিহতদের বাড়িতে যান ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান ও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. সহিদ। বিকেলে যান উপজেলা চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম। তারা নিহতদের স্বজনদের শান্তনা দেন। এসময় গ্রামের লোকজন সমবেত হলে তাদের আতংকিত না হওয়ার আহবান জানান। দোকানপাট খুলে ব্যবসা পরিচালনাসহ কাজে মন দেওয়ার কথা বলেন।
এদিকে হতাহতের ঘটনায় পুলিশে এসআই হামিদ মন্ডল বাদি হয়ে সোমবার রাতে থানায় অজ্ঞাতনামা ৭শ’ গ্রামবাসীর নামে মামলা করেছে। এতে আতংক দেখা দেখা দিয়েছে গ্রামবাসীর মাঝে। যে কোন সময় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারে এমন শংকায় এরই মধ্যে এলাকা ছেড়েছেন অনেকে।
ঘিডোবের বকুল চন্দ্র সহ অনেকে জানান, রাতে তাদের এলাকার বেশিরভাগ পুরুষই বাড়িতে থাকেন না। তাদের মধ্যে গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে।
পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীন আলম বলেন, আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই। অযথা কাউকেই হয়রানি করা হবে না।
জানা গেছে, উপজেলার ৩নং খনগাঁও ইউনিয়নরে ঘিডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোটের ফলাফলকে কেন্দ্র করে রোববার রাত ৮টার দিকে ওই ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রাথী নুরুজ্জামানের সর্মথকরা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কেন্দ্রে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে তিনি (ইউএনও) এবং হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল করিম ঘটনাস্থলে যান। বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরও কেন্দ্রে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে বিজিবিসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে যান। এরপর জনতাকে সরিয়ে যেতে হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে বারবার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু তারা ফলাফলের কাগজ ছাড়া কেন্দ্র ছাড়তে আপত্তি জানায়। এক পর্যায়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাসহ অন্যরা কেন্দ্রে থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করলে জনতা তাদের উদ্দেশ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা সরকারি গাড়ি ভাংচুর করে। রাস্তা কেটে প্রশাসনসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর গাড়ি থামানোর চেষ্টা চালায় জনগণ। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি ছোঁড়ে। এসময় একজন মহিলারসহ ৭/৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলে মারা যায় হাবিবপুর গ্রামের সাহাবলি ওরফে হুসনে (৩৫) ও  মজাহারুল ইসলাম (৪০)। আহতদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় লোহাগাড়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্র এইচএসসি পরীক্ষার্থী আদিত্য (১৮)। অন্যরা রংপুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ রাতেই নিহত মজাহারুল ও সাহাবলি হুসেনের এবং দুপুরে আদিত্যের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় মামলা হলেও বৈবচুনা ইউনিয়নের ইন্দ্রোইল (শিববাড়ি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটসহ ঠাকুরগাঁও ডিসি অফিসের আব্দুর রশিদ ও দুলাল নামে ২ জনকে এবং রাধিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের এএসআই মহিদুল ইসলামকে মারপিট করার ঘটনায় কোন মামলা হয়নি।


আরও পড়ুন