তাবলীগ জামায়াতের আঞ্চলিক ইজতেমা রংপুর নগরীর ঘাঘট নদীর ধারে শুরু

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ০৮:৪৫ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২১

রংপুর প্রতিনিধি: তাবলীগ জামায়াতের আঞ্চলিক ইজতেমা রংপুর নগরীর ঘাঘট নদীর ধারে শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে ঘাঘট নদের পাশে হাজীরহাটের রব্বানীর চরে তিন দিনের এ ইজতেমা শুরু হয়।
জানা গেছে, রংপুর জেলার ২ লাখেরর বেশি মুসল্লি এতে অংশ নিবেন। ফজরের নামাজের পর আম বয়ান শুরু করে তাবলীগ জামাতের আলেমগণ। শীত উপেক্ষা করে বিশাল আয়তনের এ মাঠে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি শামিয়ানার নিচে অবস্থান নেন। এখানে ১২টি খুঁটি বা খিত্তার নিচে একসঙ্গে ৫০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
আয়োজকরা জানান, বুধবার সকাল থেকেই রংপুর জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ ইজতেমা ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেন। এখানে রংপুর মহানগর ও সদর উপজেলাসহ তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা এবং কাউনিয়া উপজেলার তাবলীগ জামাতের অনুসারীরা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজতেমায় অংশ নিতে মুসল্লিরা আসছেন। ইজতেমায় বয়ান করতে রাজধানী ঢাকাসহ সৌদি আরব ও আফ্রিকা থেকে তাবলীগের মুরব্বীরা ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। সকাল থেকে স্থানীয় মুরুব্বিগণও বয়ান করছেন। পরবর্তীতে মাশোয়ারার ভিত্তিতে আগত আলেমগণ বয়ানের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করবেন।
এদিকে ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের এলাকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছেন। র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাসহ পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরাও। ইজতেমাকে নির্বিঘ্নে করতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম খোলা রেখেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। যানবাহন রাখার ব্যবস্থা হিসেবে মাঠ সংলগ্নে গ্যারেজ তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা। পয়ঃনিষ্কাশনে শৌচাগার, পাম্প ও ট্যাংকি স্থাপন করে অস্থায়ী গোসলখানা বানানো হয়েছে। এছাড়া ইজতেমা মাঠের কোল ঘেঁষে থাকা ঘাঘট নদীর পাশাপাশি দুটি পুকুর প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে রাতে আলোর জন্য হাজারের বেশি বৈদ্যুতিক বাল্ব সরবরাহ করা হয়েছে।
ইজতেমা প্রস্ততি কমিটির সদস্য হাফিজুল ইসলাম হাফিজ জানান, ইজতেমাতে রংপুর মহানগরীসহ আট উপজেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। মাঠে বাঁশের খুঁটিতে টাঙানো পুরো শামিয়ানাটি ওয়াটার প্রুফ। এর নিচে এক সঙ্গে ৫০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এবার ২ লাখের বেশি মানুষের উপস্থিতি ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছি।
আগামী শনিবার দুপুরে ইজতেমার শেষ দিনে বিশেষ মোনাজাত শেষে মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য এখান থেকে কয়েক হাজার মুসল্লি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবেন।


আরও পড়ুন