ফুলবাড়ীতে দশ মাসে ৩০ জনের আত্মহননের চেষ্টা

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ০৭:১৯ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২১

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পৌর শহর ও গ্রামঞ্চলগুলোতে করোনাকালে অস্বাভাবিক হারে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের মধ্যে এর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ, অতিরিক্ত উচ্চাকাংক্ষা, মাদকাসক্ত, প্রেমে ব্যর্থতা, ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়া, পরীক্ষায় অকৃতকার্যতা, ইভটিজিং ও দুরারোগ্য ব্যাধিসহ ছোটখাটো এমন অনেক বিষয়ে আবেগতাড়িত হয়ে অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। এর কারণ হিসেবে নির্যাতন, যৌতুক, সভ্রমহানি, অবমাননা, আর্থিক অক্ষমতা ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবক্ষয়কে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফুলবাড়ী থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ১০ মাস ২৩ দিনে মোট ৩০ জন আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জন গলায় ফাঁসি দিয়ে এবং বিষপানে ৬ জনসহ অন্যান্য পন্থায় আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন, এদের অধিকাংশই নারী ও তরুণ বয়সের। এর মধ্যে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে ২২ জন, ৪০ থেকে ৪৫ বছরের উর্ধ্বে ৮ জন। এতে বয়স্কদের চেয়ে তরুণ ও নারীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এসব ঘটনায় বেশিরভাগই মারা গেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশেষ করে করোনাকালে ঋণের বোঝা, অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য কলহের কারণে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। তবে থানায় দায়েরকৃত অপমৃত্যু মামলা সূত্রে পাওয়া তথ্যের বাইরেও এরকম আরো অনেক ঘটনা রয়েছে, যা মামলা না হওয়ায় এবং নথিভুক্ত না থাকার কারণে পাওয়া যায়নি।
ফুলবাড়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশ্রাফ ইসলাম বলেন, গত দশ মাসে ফুলবাড়ী থানায় ৩০টি আত্মহত্যাজনিত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ। এর প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরণের মৃত্যুর খবর মৃতের স্বজনরা পুলিশকে জানাতে চায় না। আইনি জটিলতার ভয়ে ও মর্গে মরদেহ কাটাছেঁড়ার বিড়ম্বনা এড়াতে অনেকে এই খবর পুলিশকে জানাতে চায় না। ফলে আত্মহত্যার অনেক তথ্য রেকর্ড করাও সম্ভব হয় না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নূর ই-আলম খুশরোজ আহম্মেদ বলেন, অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন, কিন্তু আমরা সেটাকে আত্মহত্যা বলতে পারি না, অনেক সময় রোগীর অবস্থার বেগতিক দেখে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করার পর মারা যান, সে তথ্য আমাদের কাছে থাকে না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ধরণের কেউ মারা গেলে, তাদের তথ্য সূত্রে পুলিশ অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। তাই আমাদের কাছে তেমন তথ্য থাকে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, এ ধরনের রোগীদের মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই অনেকের মৃত্যু ঘটে। তবে সময় মত হাসপাতালে নিয়ে আসতে পারলে অনেক সময় এদের কারো কারো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়।
ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, করোনাকালে এ ধরণের ঘটনা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। পারিবারিক অশান্তি, দারিদ্রতা, মানসিক বিকারগ্রস্ততা থেকে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।


আরও পড়ুন