ধানখেত থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতকের পরিচয় মিলেছে, ধর্ষণ মামলা

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ০৭:২৮ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের বোদায় ধানখেত থেকে উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতকের পরিচয় মিলেছে। বোদা থানা–পুলিশের তদন্তে ওই নবজাতকের মায়ের খোঁজ পাওয়া গেছে। তবে নবাজতককে জন্ম দেওয়া ওই কিশোরী (১৫) ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে বোদা থানায় শ্রী ধনেশ (২২) নামের এক তরুণসহ তাঁর বাবা–মায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হুমকি প্রদানের মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ধনেশ আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের গোপালজোত এলাকার বাসিন্দা। এদিকে আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় ওই নবজাতককে নিয়ে জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভা হওয়ার কথা আছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তরুণ শ্রী ধনেশ আত্মীয়তার সম্পর্কের সুযোগে ওই কিশোরীর বাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত করতেন। স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই কিশোরীকে প্রায় দেড় বছর আগে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ধনেশ। এর পর থেকে ওই কিশোরীকে নানাভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১০ মাস আগে ধনেশ ধর্ষণ করেন। এর পর থেকে ওই কিশোরীর বাবা-মায়ের অজান্তে প্রায় সময়ই ধনেশ কিশোরীর বাড়িতে এসে তাকে ধর্ষণ করতেন। এতে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি কিশোরী ধনেশকে জানায়। ধনেশ ক্ষিপ্ত হয়ে বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
পরে বিষয়টি ওই কিশোরী নিজের পরিবারের কাছে গোপন রেখেই ধনেশের বাবা-মাকে জানায় বলে মামলার এজাহারে দাবি করা হয়। এতে ধনেশের পরিবারও বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ওই কিশোরীকে হুমকি দেয়। সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ওই কিশোরীর বাড়িতে এসে ধনেশ অন্তঃসত্ত্বা তাকে আবারও ধর্ষণ করেন। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত তিনটায় প্রসববেদনা উঠলে ওই কিশোরী বাড়ির পাশে একটি ধানখেতে গিয়ে সন্তান প্রসব করে। এ সময় লোকলজ্জার ভয়ে নবজাতক শিশুকে সেখানে ফেলে রেখে বাড়িতে চলে আসে ওই কিশোরী।
পরে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন নবজাতকটিকে উদ্ধার করে বোদা থানা–পুলিশ ও বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) খবর দেন। খবর পেয়ে তাঁরা ওই নবজাতককে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর থেকেই বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। এরপর গত শনিবার গভীর রাতে পুলিশ ওই নবজাতকের পরিচয় নিশ্চিত হয়। পরে পুলিশ ওই কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা পুলিশকে ঘটনা খুলে বলেন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে হাসপাতালে থাকা ওই নবজাতককে অনেকেই দত্তক নিতে চেয়ে যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। তবে ওই নবজাতকের স্বজন খুঁজে পাওয়ায় এখন তাকে হস্তান্তরের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, ওই কিশোরীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আজ আদালতে হাজির করা হয়েছে। এ ছাড়া পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তার শারীরিক পরীক্ষা করা হবে। কিশোরীর পরিবারও এখন নবজাতককে নিতে চাইলে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নবজাতককে হস্তান্তর করা হবে। এ ছাড়া মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম দুপরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে নবজাতকটি হাসাপাতালে আছে। আজ বেলা সাড়ে তিনটায় জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই নবজাতকের স্বজন পাওয়ার বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে দাপ্তরিকভাবে জানতে পারলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও পড়ুন