লোডশেডিং আর লো-ভোল্টেজে অতিষ্ঠ পঞ্চগড়ের মানুষ

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ০৬:৫৯ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: লোডশেডিং আর লো-ভোল্টেজের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পঞ্চগড়ের মানুষ। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি এবং লো-ভোল্টেজসহ নানা অনিয়মের প্রতিবাদে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে পঞ্চগড় জেলা নাগরিক কমিটি।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, জেলায় প্রতিদিন পিক আওয়ারে চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকে। এজন্য পুরাতন জরাজীর্ণ সঞ্চালন সংযোগকে দায়ী করেছেন তারা।
শহরের ধাক্কারা এলাকার বাসিন্দা আজিম পাটোয়ারি বলেন, আমরা দিনের অর্ধেকই সময় ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাই না। গভীর রাতে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ আসার খবর থাকে না।
তিনি বলেন, এমনিতেই তীব্র গরম পড়া শুরু হয়েছে। বিদ্যুতের এ ঘনঘন লোডশেডিং এবং লো-ভোল্টেজের কারণে বাসার টিভি, ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছি।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, পঞ্চগড়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিরও আওতাধীন গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রতিদিন পিক আওয়ারে গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ৫৫ মেগাওয়াট। কিন্ত এর বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় ৩৪ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি রয়েছে প্রায় ২০ মেগাওয়াট। আর নেসকোর আওতাধীন পঞ্চগড় সদর এবং তেঁতুলিয়া উপজেলায় পিক আওয়ারে ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যায় ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট।
গত কয়েক দিনে তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। পাশাপাশি জেলার দীর্ঘদিনের পুরাতন সঞ্চালন সংযোগ তার এবং যন্ত্রাংশের জন্য মাঝে মধ্যে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুতের আকশ্মিক হাই ভোল্টেজের কারণে গত ২৩ আগস্ট জেলা জজ আদালত ভবনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। একই সময় আদালত সংলগ্ন বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আবাসিক গ্রাহকদেরও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। ঘটনার পরদিন জেলা ও দায়রা জজ মো. শরীফ হোসেন হায়দার নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দুই ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে আদালতে হাজির হতে তলব করেন।
এ ঘটনায় নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিফুর রহমান নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির হয়ে ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হবেন বলে আশ্বস্ত করেন এবং আদালত ভবনের সামনে নতুন একটি ট্রান্সফর্মার স্থাপনসহ আদালত ভবনের বিদ্যুৎব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সচল করে দেন। এ সময় জনগণের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে সতর্ক করে দেন আদালত।
পঞ্চগড় নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিফুর রহমান বলেন, নেসকোর আওতাধীন জেলার ছয়টি ফিডারের সঞ্চালন সংযোগ আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। জনবল এবং পরিবহনেও কিছুটা সমস্যা রয়েছে। এ বিষয়টিও কাটিয়ের ওঠার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতেরও কিছুটা ঘাটতি থাকে। সব মিলিয়ে গ্রাহকদের মাঝে মধ্যে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি দ্রতই সংকট কেটে যাবে।
নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এরশাদ হোসেন সরকার বলেন, এখন এমনিতেই তীব্র গরম পড়ছে। এর মধ্যে কারণে-অকারণে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং, লো-ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে আমরা সাধারণ গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ। সরকারিভাবে বলা হচ্ছে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা এখন কোন দিকে যাবো।
তিনি বলেন, জেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে আমরা জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছি। এতে দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।
জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, সরকার সারাদেশের মতো পঞ্চগড়েও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বদ্ধ পরিকর। তবে আমাদের কোথাও ত্রুটি রয়েছে কি-না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে হয়েছে। আশা করি, বিদ্যুতের এ সমস্যা দ্রুতই সমাধান করা হবে।


আরও পড়ুন