তিস্তায় মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় নদীর পাড়ের মানুষ শঙ্কিত

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ০৮:২৪ পিএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: তিস্তা নদীতে সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই তীব্র ভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে কয়েকশ’ পরিবারের মানুষ। গত ৩ মাস ধরে অব্যাহত নদী ভাঙনে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম, চরগতিয়াশাম ও বগুড়াপাড়া গ্রামে সহস্রাাধিকসহ দুই ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে সহস্রাধিক পরিবারের মানুষ বাস্তুভিটা হারিয়েছেন। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ওই ভাঙন কবলিত এলাকায় দায়সাড়া কাজ করায় এলাকাবাসীরা পাউবোর কর্মকর্তাদের মারধরের হুমকি দেয়ায় অভিযোগ এনে ভাঙন প্রতিরোধে গতিয়াশাম এলাকায় কাজ বন্ধ রেখেছে পাউবো কর্তৃপক্ষ। 
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার নদী ভাঙন প্রবন এলাকা ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ, বুড়িরহাট, গতিয়াশাম, চরগতিয়াশাম, শরিষাবাড়ি বগুড়াপাড়া এবং বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি, কালির মেলা, চতুরা, গাবুর হেলান, রতি, তৈয়বখাঁ, চর বিদানন্দ সহ ১০টি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে সহস্রাধিক মানুষ বাস্তুভিটা হারিয়েছেন। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে গতিয়াশাম, চরগতিয়াশাম ও বগুড়াপাড়া গ্রামে নদীগর্ভে ৫ শতাধিক মানুষের বসতভিটা, দুই শতাধিক একর ফসলি জমি, আড়াই কিলোমিটার রাস্তা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। অব্যাহত ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদী পাড়ের মানুষজন। তারা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। এছাড়া তীব্র ভাঙনের কারণে হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে তৈয়বখাঁ বাজার, কালিরহাট বাজার, বুড়িরহাট বাজার, তৈয়বখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২০টি প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি। দিনের পর দিন ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে  জনশূন্য দু’টি ইউনিয়নের মানচিত্র। 
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা এলাকার হরিপদ, বাসন্তি, আব্দুস সালাম, আলফাজ উদ্দিন বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না হলে যেকোন মুহূর্তে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এসব প্রতিষ্ঠান। ভাঙন আতঙ্কে অনেকে গ্রাম ছেড়েও চলে যাচ্ছেন অন্যত্র। 
চরগতিয়াশাম বগুড়াপাড়া গ্রামের মানিক মিয়া (৬৫) বলেন, গত ২০/২৫ দিনে পনের-ষোল দোণ মাটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মনে করছিলাম সরকার নদী ভাঙনে বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে। নদী আর এদিকে আসবে না। তাই কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে পাকা বাড়ি করছিলাম, তাও চলে গেল। আমাদের আর কোথাও যাওয়ার পথ নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরে তাসনিম জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১ লাখ টাকা ও ১ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি, তালিকা হচ্ছে, দু-একদিনের মধ্যে দেয়া হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর উপবভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, গতিয়াশাম, চরগতিয়াশাম গ্রামে গত জুলাই মাসে টানা ৫ দিন ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করার পর ওই এলাকার লোকজন পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকদের বেঁধে মারধরের হুমকি দেয়ায় পড়ে কাজ বন্ধ রয়েছে।


আরও পড়ুন