দুপচাঁচিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট: রোগীদের দুর্ভোগ

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৮, ২০২২, ০৮:৫৮ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ১৮, ২০২২, ০৮:৫৮ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: দুপচাঁচিয়া উপজেলা সরকারি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী বাড়লেও চিকিৎসক সংকটের ফলে মিলছে না কাঙ্খিত সেবা।
আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদরের বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক সংলগ্ন দুপচাঁচিয়া সিও অফিস বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন উত্তর পাশে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিগত কয়েক বছর অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তি কাহালু, আদমদীঘি ও জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলার রোগীরা চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকে। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদ শূন্যসহ চিকিৎসক সংকট। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ডাক্তারের ২৭টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছে ১৫জন। ১০জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ ১২টি ডাক্তারের পদ শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণির নার্সসহ ৩০টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ২৬ জন। ৪টি পদ শূন্য। তৃতীয় শ্রেণির মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারি ও সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৬৮ পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৪৩ জন আর শূন্য রয়েছে ২৫জন। এছাড়াও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ ২৪টি থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৬ জন। ১৮টি পদই শূন্য।


এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ্ আল হানিফ জানান, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে আজ মঙ্গলবার এক সপ্তাহে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮৮ জন ডায়রিয়া জনিত রোগী ভর্তি হয়েছে। এছাড়াও শিশুদের নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৮ জন। এদিকে বর্হিঃবিভাগে গত এক মাসে ৮ হাজার ২৯০ জন বিভিন্ন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল কুদ্দুস গত এক মাস বিভাগীয় পরীক্ষার জন্য ছুটিতে থাকার পর সম্প্রতি সহকারি পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে যোগদান করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এই পদটি শূন্য। বর্তমানে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোহাম্মদ আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ্ আল হানিফ অতিরিক্ত ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সে ডাক্তারদের নির্ধারিত আবাসিক ভবন থাকলেও হাতে গোনা দু’তিন জন ডাক্তার এই ভবনগুলোতে অবস্থান করলেও আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ অধিকাংশ ডাক্তারই জেলা শহর বগুড়া থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াত করছেন। এতে সরকার আবাসিক বাসভবনের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম চললেও তাও বিঘ্ন ঘটছে। প্রায় প্রতিদিনই বগুড়া থেকে ডাক্তার সকাল ৮ টার পরিবর্তে ১০টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন। এর মাঝেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রধানের অফিস কক্ষে ১ ঘন্টা চা বিরতির বৈঠকে বসেন। এর ফলে রোগীদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা সেবার জন্য লাইনে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তার পরেই ঘড়ির কাটায় দুপুর ১টা পৌছাতেই ডাক্তারদের আবার বগুড়া যাওয়ার জন্য তড়িঘড়ি। সব মিলিয়ে দুপচাঁচিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কর্মকান্ড ভেঙ্গে যাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবাও ভেঙ্গে পড়েছে। রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়