বগুড়ায় অরেঞ্জ হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধার: শূট্যার রাসেল কারাগারে

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১২, ২০২২, ০৯:৩৫ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ১২, ২০২২, ০৯:৩৫ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাজমুল হাসান অরেঞ্জকে হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলাবার রাতে গ্রেফতারকৃত ‘শুটার রাসেলকে’ সঙ্গে নিয়ে  সদর থানার পুলিশের একটি টিম শহরের মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার একটি ড্রেন থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে। পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা এই পিস্তল দিয়েই অরেঞ্জকে গুলি করা হয়।
এ দিকে, অরেঞ্জ হত্যাকান্ডের মূল নায়ক গ্রেফতারকৃত রাসেল ও খায়রুলকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। পরে শুনানী শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
সদর থানার ওসি মো: লিম রেজা জানান, এর আগে থানায় রাসেল ও খায়রুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খায়রুল মুখ না খুললেও রাসেল অরেঞ্জকে গুলি করার কথা স্বীকার করে বলেছে, মালগ্রাম এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে অরেঞ্জকে হত্যা করা হয়েছে। সেইসাথে স্বেচ্ছাসেবকলীগ থেকে তাকে বহিস্কারের নেপথ্যে অরেঞ্জসহ অন্যদের হাত ছিল। সেই ক্ষোভ তার মধ্যে দাউ দাউ করে চলছিল। প্রতিশোধ স্পৃহা কাজ করছিল তার মধ্যে। মূলত এ সব কারনেই অরেঞ্জ হত্যার ছক আঁকে সে। হত্যাকান্ডের আগে সে মালগ্রাম ডাবতলায় এসে রেকিও করে যায়। এরপরেই দিনেই অরেঞ্জকে গুলি করে হত্যা করে সে ও তার সঙ্গিরা।
ওসি সেলিম রেজা আরও জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল আরও স্বীকার করে যে, অরেঞ্জ কিলিং মিশনে ৬ জন অংশ নেয়। তিনটি মোটর সাইকেলে চেপে তারা মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় গিয়ে গুলি করে অরেঞ্জকে হত্যা করে, আর আপেলকেও গুলি করে। রাসেল স্বীকার করেছে সে পিস্তল দিয়ে তিনটি ফায়ার করেছে। এ দিকে পুলিশ অবশ্য তিনটি গুলির খোসাও জব্দ করেছে।
রাসেল আরও দাবি করেছে যে, অরেঞ্জ তার টার্গেট ছিল না। টার্গেট ছিল এক নেতা। যার কারনে সে দল থেকে বহিস্কার হয়েছে। এ দিকে রাসেল এসব তথ্য পুলিশকে দিলেও সে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে কোন জবানবন্দি দেয়নি।
অপর দিকে, মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এস.আই জাকির আল আহসান বলেন, ‘গ্রেপ্তার রাসেলের দেখানো মতে রাত দেড়টার দিকে ওই এলাকা থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। পিস্তলটি ভারতের তৈরি হতে পারে।’ তবে সে কোথায়, কার কাছ থেকে অস্ত্রটি কিনেছে বা পেয়েছে সে বিষয়ে সে মুখ খোলেনি। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাসেলকে পরবর্তীতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। সেইসাথে খায়রুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এর আগে র‌্যাব-৩ ঢাকার বনানী এলাকা থেকে রাসেলকে গত সোমবার রাত ১০টার দিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা বগুড়া সদর থানা পুলিশের কাছে গত মঙ্গলবার তাকে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে বগুড়া শহরের মালগ্রামের ডাবতলা এলাকায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাজমুল হাসান অরেঞ্জকে গুলি করে সন্ত্রাসিরা। এ সময় তার বন্ধু আরেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মিনহাজ শেখ আপেলও গুলিবিদ্ধ হন। তবে অরেঞ্জের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে আইসিইউ-তে নেয়া হয়।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে টানা আট দিন তিনি বগুড়াা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। পরে সোমবার রাত ১১টার দিকে অরেঞ্জ মারা যান।
নিহত অরেঞ্জ মালগ্রাম দক্ষিণপাড়ার রেজাউল ইসলামের ছেলে। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগ বগুড়া জেলা শাখার সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়