গাবতলীতে নির্বাচনী সহিংসতায় বিজিবি’র গুলিতে নিহতের পরিবার এ ‘হত্যাকান্ড’র বিচার চায়

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১০, ২০২২, ১০:৫৩ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ১০, ২০২২, ১০:৫৩ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি: ৫ জানুয়ারি গাবতলীর বালিয়াদিঘী ইউনিয়নে কালাইহাটা গ্রামের নির্বাচনী সহিংসতায় বিজিবি’র গুলিতে নিহত চার পরিবারের সদস্যরা হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করলেও এ মুহুর্তে এ নিয়ে মামলা না করে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।  
বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের কালাইহাটা গ্রামে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা পরিবারের শূন্যতার কথা উল্লেখ করে বিচার দাবি করেন।
বিজিবির গুলিতে নিহত আলমগীর (৪০)এর স্ত্রী হোসনে আরা ও একমাত্র কন্যা আদুরী খাতুন জানান, তারা বগুড়া শহরতলীর কৈপাড়া এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। আলমগীর পেশায় ছিলেন রিকশা চালক। প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করতেন তাই দিয়ে চলতো তাদের সংসার। এক দিন রিকশা না চালালে তাদের পেটে ভাত জোটে না।  হোসনে আরা জানান, তার স্বামী আলমগীর শুধু ভোট দেয়ার জন্য গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। ভোট দিতে এসে লাশ হলেন। এই হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেন। তাদের সংসার এখন কেমন করে চলবে। তিনি সরকারের কাছে তার জন্য একটা কাজ এবং মেয়ের লেখা পড়ার নিশ্চয়তা চান। আলমগীরের বড় ভাই আসাদুল জানান, তারা এখনো মামলা করেননি। মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন চেয়ারম্যান এবং নেতা রা। । আলমগীরের স্ত্রীর দাবী তার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চায়।
গুলিতে নিহত একই এলাকার আব্দুর রশিদ (৬০) পেশায় ছিলেন দিনমজুর। তার স্ত্রী বুলবুলী বেগম ও দুই সন্তান বাবুল মিয়া (১৬) ও ছোট ছেলে আদুল হাসান (১৩) কালাইহাটা মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে। মৃত আব্দুর রশিদ স্ত্রী বুলবুলী বেগম জানান, তার উপার্জন করার কোন মানুষ নাই। আমার সংসার কিভাবে চলবে? সন্তানদের লেখাপড়া কিভাবে হবে। তিনি তার স্বামীর হত্যার বিচার চান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করেন।
একই এলাকার খোকনের দ্বিতীয় স্ত্রী কুলসুম ভোটের দিন স্থানীয় মেম্বার প্রার্থর এজেন্ট ছিলেন। ভোট কেন্দ্রে ফলাফল জানার জন্য অপেক্ষা করছিল। রাত অনুমানিক সাড়ে ৮টায় বিজিবির গুলিতে নিহত হয়। খোকন আরও জানান কুলসুমের একমাত্র ছেলে রাকিব হাসান (১৫)। অকারনে তিনি তার স্ত্রীকে হারালেন। এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচারের দাবি করেন।
বিজিবির গুলিতে নিহত খোরশেদ (৭০) এর ছোট ছেলে এরশাদ (৩২) একজন দিন মজুর। তারা দুই বোন দুই ভাই। বাবা খোরশেদ কৃষক ছিলেন। খোরশেদের ছোট ছেলে এরশাদ দাবি করেন তার বাবা একজন নিরিহ মানুষ ছিলেন। সে ভোটের দিন বিকেলে ওই ভোট কেন্দ্রে সংলগ্ন বাজারে শাক বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। তার বাবা বাড়ি ফেরার সময় গুলি বিদ্ধ হয়ে মারা যান। তিনিও তার বাবার হত্যাকান্ডের বিচার চান।
বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইউনুস আলী ফকির জানান, কালাইহাটা গ্রামের সবাই ভোটের কারনে মাঠে ছিলেন। অসৎ উদ্যেশে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি জানান, নিহতদের পরিবারে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মামলা করা হবে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মামলা না করার পক্ষে মতামত মব্যক্ত করেন এবং মামলা যদি করতে হয় তবে দলেন স্থানীয় এবং জেলার নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে করা হবে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের কালাইহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জাকির হোসেন বাদী হয়ে সাধারণ জনগনের বিরুদ্ধে থানায় যে মামলা করেছে তা মিথ্যা।
এদিকে কালাইহাটা ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সালাহউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওনক জাহান, থানার অফিসার এনচার্জ এবং রিটার্নিং অফিসার। স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেম দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়