বগুড়ায় জীবন-মৃত্যু’র সন্ধিক্ষণে গুলিবিদ্ধ অরেঞ্জ: আপেলের অবস্থা অপরিবর্তিত

প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৩, ২০২২, ১০:৪০ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ০৩, ২০২২, ১০:৪০ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: গুলিবিদ্ধ সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নাজমুল হাসান অরেঞ্জ এখন জীবন-মৃত্যু’র সন্ধিক্ষণে। তার অবস্থা আরও অবনতি হয়েছে। তার মাথায় বিদ্ধ গুলি অপসারণ করা হয়নি এখনও। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ একই সংগঠনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড নেতা মিনহাজ শেখ আপেল (২৩) এর অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় বিসমিল্লাহ গ্যারেজের দক্ষিণপাশে অরেঞ্জ ও আপেলকে গুলি করার পর দু’টি মোটর সাইকেলে চেপে চার সন্ত্রাসি পালিয়ে যাচ্ছে। তবে সিসি ফুটেজে গুলি করার দৃশ্য ধরা পড়েনি। শুধু দেখা গেছে হামলাকারিরা মালগ্রাম দক্ষিণপাড়ার নীলা হাজির মোড়ের দিক থেকে দুটি মোটর সাইকেলে চেপে সেখানে এসে গুলি চালিয়ে মালগ্রাম উত্তরপাড়ার দিকে পালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ হামলাকারিদের মধ্যে একজনকে সনাক্ত করতে পেরেছে। তার নাম রাসেল। সেও  সাবেক সেচ্ছসেবকলীগ নেতা। তবে গতকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

">

এ ঘটনায় আজ সদর থানায় রাসেলকে প্রধান আসামী করে ৭ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী স্বর্ণালী আক্তার। মামলার আর্জিতে তিনি বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার স্বামী অরেঞ্জ ও তার স্বামীর বন্ধু আপেলের ওপর গুলি চালিয়েছে আসামীরা। তবে পুলিশ বলছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাদের ওপর গুলি করে ওই সন্ত্রাসিরা। ৮-১০ মাস আগে মালগ্রামে রনি নামে এক যুবক ছুরিকাহত হয়। এরপর এ ঘটনা নিয়ে সেখানে দু’দলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ লেগেই ছিল। বিষয়টি মিমাংসার জন্য দু’দলই নেতাদের কাছে ধর্না দিলেও বিষয়টি মিমাংসা হয়নি। সম্প্রতি এলাকার নিয়ন্ত্রন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় দু’দলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে আসছিল। পরে তা বড় আকার ধারন করে এবং সর্বশেষ অরেঞ্জ ও আপেলের ওপর গুলি করার ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় বিসমিল্লাহ গ্যারেজের দক্ষিণ পাশে রাত ৮ টার দিকে অরেঞ্জ ও আপেলসহ কয়েকজন বন্ধু আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় রাসেলের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসি মোটর সাইকেল যোগে সেখানে এসে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে অরেঞ্জ ও আপেলকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এর মধ্যে একাধিক গুলি অরেঞ্জের মাথায় লাগে। এতে অরেঞ্জ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এছাড়া  আপেলের কোমর ঘেষে গুলি লাগে। পরে সন্ত্রাসিরা পালিয়ে যায়। এরপর লোকজন তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
আজ এ ব্যাপারে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক  ডা: মো: আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, গুলিবিদ্ধ অরেঞ্জের অবস্থা খুবই নাজুক। অপারেশন করে তার মাথা থেকে গুলি বের করার মত অবস্থা তার নেই। হাসপাতালের আইসিইউতে তাকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ওসি মো: সেলিম রেজা জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারিদের সনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাসেলকে প্রধান আসামী করে ৭ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে আরও ৪-৫ জনকে। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসি ফুটেজ দেখে আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে সদর থানার এস.আই মো: জাকির আল আহসানকে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়