উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় গাড়ীদহ ইউপি’র সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীরা

প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৩, ২০২২, ০৯:১২ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ০৩, ২০২২, ০৯:১২ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: আগামীকাল ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ মডেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৯টি ভোট কেন্দ্রের ১৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ভোট কেন্দ্রে বল প্রয়োগে নির্বাচন প্রভাবিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীরা। এরইমধ্যে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তাই ভোট গ্রহণের দিন পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলার দশটি ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে ন’টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আর পঞ্চম ধাপে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাকি গাড়ীদহ মডেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এতে মোট ১৯টি কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ৯১৩ জন ভোটার ভোট দেবেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৫৬ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   
এরমধ্যে তিনজন প্রার্থীর অভিযোগ, গাড়ীদহ ইউপি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্তত ১৪টি কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। সেইসঙ্গে তাদের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের নানা হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। এমনকি ভোট কেন্দ্রে যেতে তাদের নিষেধ করা হচ্ছে। তাই ওইসব ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো হলো সামিট স্কুল এন্ড কলেজ, মহিপুর কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়, মহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাপুনিয়া মহাবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত তিনটি ভোটকেন্দ্র, কানুপুর দাখিল মাদ্রাসা, গাড়ীদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাড়ীদহ পাবলিক স্কুল, ফুলবাড়ী হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, কালশিমাটি উচ্চ বিদ্যালয়, চকপাথালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাফুড়া বালিকা সমবায় দাখিল মাদ্রাসা। পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকেও এসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে আজ সোমবার গাড়ীদহ মডেল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কথা হয় সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের সঙ্গে। এরমধ্যে জয়নগর গ্রামের ফরিদ উদ্দিন, হাপুনিয়া গ্রামের ফারুক হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, শুনছি ভোটকেন্দ্রে গন্ডগোল হবে। তাই ভোট দিতে যাব কী-না ভাবছি। দেখি যদি পরিবেশ ভাল দেখি, তাহলে ভোট দিতে যাব। আর ভোট দেওয়ার আগেই যদি ফলাফল নিশ্চিত হয়ে যায়, তাহলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন কেন্দ্রে যাব?
গাড়ীদহ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী দবির উদ্দিন সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার দলীয় লোকজন সাধারণ ভোটারদের নানা হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। কেন্দ্র দখল করে জোর করে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানান তিনি।
তবে এসব বিবেচনায় রেখেই নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন বলেন, সবাই নির্বিঘ্নে যাতে ভোট দিতে পারেন সেটি নিশ্চিত করা হবে। তাই সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শঙ্কার কোন কারণ নেই। এছাড়া অতিগুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে পাঁচজন পুলিশ ও ১৭ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া এই নির্বাচনে দু’জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এক প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের একটি টিম ও পুলিশের তিনটি মোবাইল টিম নিয়োজিত থাকবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়