বগুড়ায় দিনমজুর শমসেরকে গোপনাঙ্গে লাথি মেরে হত্যা করা হয়

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় দিন মজুর শমসের আলী (৫২) হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। ইয়ার্কির ছলে মমইন পার্কে যৌনাঙ্গে লাথি মেরে তাকে হত্যা করে মোস্তফা নামে আরেক দিনমজুর। হত্যাকান্ডে জড়িত মোস্তফা শমসের হত্যার দায় স্বীকার করে গতকাল অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়ার তারিকের আদালতে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ম্যাজিষ্ট্রেট তার দেয়া জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বগুড়ার সদস্যরা গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত মোস্তফা ডিমলা উপজেলার বাইশপুকুর এলাকার সাহাবুল্যাহর ছেলে। এ ছাড়া নিহত শমসের ডিমলা উপজেলার ছাতুনামা এলাকার মৃত নহর উদ্দিনের ছেলে। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়ে পিবিআই বগুড়ার পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন প্রেস ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান।
প্রেসব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃত মোস্তফা এবং শমসের  বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় ধানের জমিতে কাজ করতেন। গত জুন মাসে তারাসহ ৭-৮জন মুজুর বগুড়ায় এসে মাটিডালী ঠান্ডুর স-মিলে রাতে ঘুমাতেন এবং দিনের বেলায় বিভিন্ন স্থানে কাজ করতেন। গত ২৮ জুন মোস্তফা ও শমসের সদরের শাখারিয়া ইয়নিয়নের কবিরাজপাড়া গ্রামে স্ব-স্ব কাজে যান। কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে তারা ফেরার পথে সদরের নওদাপাড়ায় মম ইন পার্কের পিছনে করতোয়া নদীর ধারে যায়। এ সময় সেখানে তারা হাসি-ঠাট্টাসহ বিভিন্ন মজার আলাপ করতে থাকে। হাসি-ঠাট্টার এক পর্যায়ে ইয়ার্কির ছলে মোস্তফা ডান পা দিয়ে শমসেরের গোপনাঙ্গে সজোড়ে লাথি মারে। আঘাতের ফলে শমসের মাটিতে পড়ে যায় এবং তার মৃত্যু হয়।
এরপর মোস্তফা লাইননের রশি দিয়ে মৃত শমসেরের হাত বাঁধে এবং গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে লাশ সেখানে ফেলে চলে আসে। পরেরদিন শমসেরের লাশ স্থানীয় লোকজন দেখে পুলিশে খবর দিলে উদ্ধার করে। পরে সদর থানায় মামলা হলেও পিবিআই তদন্ত শুরু করে হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং মূল আসামিকে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়া সদরের মম ইন পার্কের পিছনে করতোয়া নদীর কিনার থেকে হাত বাঁধা ও গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় শমসেরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


আরও পড়ুন