সড়ক খুঁড়েই ঠিকাদার উধাও, সীমাহীন দুর্ভোগ গ্রামবাসীর

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ০৬:৫১ পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০২১

শেরপুর (বগুড়া): বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের নাম সগুনিয়া। গ্রামটিতে প্রায় সহস্রাধিক পরিবারের বাস। এরই মধ্যে গ্রামটিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ-মন্দিরসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে গ্রামটিতে।
মাত্র আধা কিলোমিটার সড়ক সগুনিয়া গ্রামকে দুর্গম করে রেখেছিল। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকাকরণে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু পাকাকরণের জন্য সড়কটি খুঁড়ে রেখে কাজ সম্পন্ন না করেই উধাও হয়েছে প্রকল্পের ঠিকাদার। ফলে কাজ শেষ না হওয়ায় যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। তাই দীর্ঘ ছয়মাস ধরে বন্ধ আছে সব ধরনের যান চলাচল। এতে করে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে কৃষি নির্ভর এ এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এমনকি ন্যায্য দামও পাচ্ছেন না। কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্কুল কানেক্টিং রোড নির্মাণ প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্যাকেজে আছে দুটি দুই সড়ক নির্মাণ কাজ। এরমধ্যে একটি হলো উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের সগুনিয়া গ্রামে ৫০০ মিটার সড়ক পাকাকরণ। এটি প্রায় ৩০ লাখ টাকার কাজ। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে চলতি বছরের শুরুতেই বগুড়ার মা তাসিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। বিগত ছয়মাস আগে সগুনিয়া গ্রামের ওই সড়কটি পাকাকরণ জন্য কাজ শুরু করে তারা।
প্রাথমিক খনন কাজ (বক্স কার্টিং) সম্পন্ন করে। কিন্তু এখানেই শেষ। এরপর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর কোনো কার্যক্রম নেই। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তাদের লোকজন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিকবার লিখিত আদেশ ও নির্দেশনা দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ আছে। সড়কটি খুঁড়ে রেখে কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদার উধাও হয়ে যাওয়ায় এ এলাকার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী শ্রী দয়াল চন্দ্র, অধির চন্দ্র সরকার, মন্টু প্রামাণিক, প্রভুল্ল চরণ ভৌমিকসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই সড়কটি পাকাকরণের জন্য খনন কাজ করেন ঠিকাদারের লোকজন। কিন্তু আর কোনো কাজ করেননি। সড়কের প্রায় আশিভাগ কাজই পড়ে আছে। তাই বর্ষায় বৃষ্টিপাত শুরু হলে খুঁড়ে রাখা সড়কটির মধ্যে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। কাঁচা সড়কটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। এখন পানি না থাকলেও সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। তাই বিগত ছয়-সাত মাস ধরে রিকশা-ভ্যানসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ আছে। এতে করে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
তারা আরও বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক পাকাকরণ কাজটি সম্পন্ন না হলে বিগত মৌসুমের মতোই চলতি মৌসুমের উঠতি ফসল আমন ধান ও শীতকালীন সবজি নিয়ে বিপাকে পড়বেন। এছাড়া গ্রামের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া-আসায় মারাত্মক সমস্যা হবে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মা তাসিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. রাসেল আহমেদ বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে প্যাকেজের কাজগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া করোনার কারণেও কাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। কাজটি এরই মধ্যে আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। আমার পক্ষে কাজ করা সম্ভব না হলেও ওই ঠিকাদার দ্রুতই কাজ করবে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু তালিম হোসেন বলেন, কাজটি যাকে দেওয়া হয়েছিল, তারা শেষ করেনি। তাই খুঁড়ে রাখা সড়কটি বেশকিছুদিন ধরে পড়ে আছে। অচিরেই গ্রামের লোকজনের এই দুর্ভোগ কেটে যাবে। সাব-ঠিকাদার হিসেবে একজন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন। তিনিই জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের পাকাকরণ কাজটি দ্রুতই শেষ করবেন।


আরও পড়ুন