রাজশাহীতে কোটি টাকার ড্রেন অকেজোতে তলিয়ে আছে ৩শ’ বিঘার ধান

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ০৯:৩২ পিএম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে প্রায় আড়াই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত খাল খনন প্রকল্প। স্থানীয় সাংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ প্রকল্পের ফলক উন্মোচনের পর শতভাগ কাজের মধ্যে ৮০ ভাগ কাজ শেষ হলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী কাজে বাধা প্রদানসহ আদালতে মামলা করায় মুখ থুবড়ে পড়েছে এই প্রকল্পটি।
এ কারণে উপজেলার নওটিকা, আরিপপুর, বেলগাছি, বারখাদিয়া, হিজোলপল্লী ও তেপুখুরিয়াসহ ৬ টি বিলে জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে প্রায় ৩ শ’ বিঘা জমির ধান-সহ অন্যান্য ফসল।
সম্প্রতি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে কৃষকদের পক্ষে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বাজুবাঘা ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান। একই সাথে এ অভিযোগের অনুলিপি প্রেরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও নওটিকা গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তার ৫ বিঘা জমির ধানসহ ওই এলাকার অসংখ্য কৃষকের প্রায় ২-৩শ’ বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর একটি কারণ অপরিকল্পিতভাবে বিলের মধ্যে পুকুর খনন এবং বরাদ্দকৃত ড্রেনের কাজ বন্ধ করে দেয়া।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, ওই এলাকায় নদীর সাথে বিলকে সম্পৃক্ত করে গত আড়াই বছর পূর্বে সরকারি খাল খনন শুরু করা হয়েছিল। মোট ৮ কিলোর মধ্যে ৬ কিলো খনন শেষে হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু সংখ্যাক মানুষ খাল খননে বাধা দেয়াসহ আদালতে মামলা করে। যার কারণে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। একই কথা বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান। তার মতে জনসার্থে এই খালটি সম্পূর্ণ খনন করা খুবই জরুরী।
এ বিষয়ে খাল খনন এলাকার বাসিন্দা ও বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, সরকার জনগণ এবং দেশের কল্যাণে অনেক কিছুই করে থাকেন। এখানে ৮ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে ২ কিলোমিটার বন্ধ রয়েছে । সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চাইলে কৃষকদের কিঞ্চিত ক্ষতিপূরণ দিয়ে বাকি ড্রেন সম্পূর্ণ করলে বিলের পানি নিস্কাশন হবে এবং পানির নিচে আর কখনোই ধান তলিয়ে থাকবে না।


আরও পড়ুন