‘সৌদি আরবে ফিরতে না পারলে পরিবার নিয়ে পথে বসব’

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৬:১৯ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফিরতি টিকেট নবায়নের দাবিতে কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে বিক্ষোভ করছেন সৌদি আরবের প্রবাসী শ্রমিকরা। সম্পূর্ণ বৈধভাবে দেশে আসা এসব শ্রমিক করোনা পরিস্থিতির কারণে আটকা পড়েছেন। টিকেট নবায়ন করতে না পারার কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ হুমকির মধ্যে পড়েছে।

বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবারও প্রবাসী শ্রমিকরা কারওয়ান বাজারে মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা সোনারগাঁও হোটেলে সৌদি এয়ারলাইনস কার্যালয়ের বাইরেও অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের দাবি, টিকেট নবায়নের সুযোগ দিয়ে তাঁদের সৌদি আরবে ফেরার ব্যবস্থা করা হোক। এজন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কমনা করেছেন। 

কয়েকদিন ধরেই টানা অবস্থান ও বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন জয়পুরহাট জেলার শামস সুমন (৪৫)। তিনি আজ দুপুরে  বলেন, ‘আমার ভিসা, কাজের অনুপত্র, টিকেট সবই রয়েছে। গত তিন দিন টিকেট নবায়নের জন্য রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের সামনে অবস্থান করছি। সৌদিতে ১৩ বছর ধরে কাজ করার পর দেশে এসেছি নয় মাস হলো। এখনো বিদেশ যেতে পারছি না। পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। এ নয় মাসে নিজের পকেটে যা ছিল সবই শেষ। এখন পথের ভিক্ষুক হয়ে গেছি।’

‘আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর আমার ভিসার মেয়াদ এবং আকামার (কাজের অনুমতিপত্র) মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সৌদি যেতে না পারলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। শুধু টিকেট নবায়নের জন্যই এত কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছি। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে’, যোগ করেন শামস সুমন।

শুধু শামস সুমন নন, তাঁর মতো হাজার হাজার প্রবাসী নারী-পুরুষ টিকেট নবায়নের জন্য ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করছেন। সোনারগাঁও হোটেলের সামনে কথা হচ্ছিল মাদারীপুরের শিবচরের সালমা আক্তারের সঙ্গে। মধ্যবয়সী এই নারী জানান, অনেক আগেই স্বামী তাঁকে ছেড়ে গিয়ে অন্যত্র বিয়ে করে করেছেন। উপায় না পেয়ে দুই ছেলেকে মা-বাবার কাছে রেখে তিনি তিন বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তিন বছর পর দেশে এলে করোনা পরিস্থিতির কারণে আর যেতে পারছেন না।

সালমা আক্তার বলেন, ‘ভিসা টিকেট, কাজের অনুমতিপত্র সবই আছে। কিন্তু টিকেট নবয়ানের অভাবে কাজে যেতে পারছি না। তিন দিন ধরে রাজধানীতে অবস্থান করছি। এখনো কোনো আশ্বাস পাচ্ছি না। ভাই, সৌদি ফিরে যেতে না পারলে দুই সন্তান আর মা-বাবাকে নিয়ে ভিক্ষা করতে হবে।’     

এর আগে গতকাল সোমবার প্রবাসীদের বিক্ষোভের মুখে ১০ জন প্রতিনিধিকে কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যায় সৌদি এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মাধ্যমে অন্যদের টিকিট সংগ্রহের সিরিয়ালের টোকেন দেওয়া হয়। তবে আজ সকালে কোনো ঘোষণা না দিয়েই অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যালয় বন্ধ করে দেয় এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ।

বরগুনার সৌদি প্রবাসী  মো. মনির হোসেন বলেন, ‘আমি কয়েক মাস ধরে দেশে আটকা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বরগুনা থেকে ঢাকায় এসেছি। প্রতিদিনই ফিরতি টিকেটের তারিখ জানতে সৌদির অফিসে আসছি। তবে তারা তারিখ দিতে পারছে না। ৩০ সেপ্টেম্বর আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আমরা এখানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

আগামী ১ অক্টোবর থেকে সৌদিতে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তবে ল্যান্ডিং পারমিশন না পাওয়ায় যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করতে পারছে না তারা। অপরদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ রুটে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইটের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। তবে বিমানকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি না দেওয়ায় এখনো ঝুলে আছে সৌদির ফ্লাইট পরিচালনার ভবিষ্যৎ।

ফ্লাইট চালানোর অনুমতি পাওয়ার পরই সৌদি এয়ারলাইনস টিকিট বিক্রি শুরু করে। তবে আজ সকাল থেকেই তাদের প্রধান গেটের সামনে একটি কাগজে নোটিশ লিখে তারা জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সৌদি এয়ারলাইনসের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।

গত সপ্তাহে বলা হয়, এ সপ্তাহে দেড় হাজার টিকেট  দেওয়া হবে।  কিন্তু ৫০ জনকে টিকেট দেওয়ার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বলা হয়, টিকেট শেষ। এসব টিকেট অনলাইনে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রবাসী শ্রমিকরা।