মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীর আবাসন নিশ্চিত করবে নিয়োগকর্তা

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০১:০৮ পিএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীর আবাসনের ব্যবস্থা করবে নিয়োগকর্তা। মালয়েশিয়ার মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড অব হাউজিং অ্যান্ড এমেনিটিজ আইন ১৯৯০ (আইন ৪৪৬) অনুযায়ী নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি এটি বাস্তবায়ন করবে। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মীর স্ট্যান্ডার্ড আবাসনের ব্যবস্থা করবে নিয়োগকর্তা।

আইনানুযায়ী কর্মীর জন্য এমন ভবনে আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে যেখানে পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন, খেলাধুলা ও বিনোদনের জায়গা, নিরাপত্তা, প্রাথমিক চিকিৎসা, হাসপাতালে স্থানান্তর সুবিধা থাকবে। এসব দেখাশোনার জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকবে।


এছাড়া ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর এক নীতিতে বলা হয়, লাইট ও ফ্যানসহ কর্মীদের বিশ্রামের জন্য জায়গা রাখতে হবে। খাবার খাওয়ার জায়গায় চেয়ার-টেবিল, লাইট-ফ্যানের ব্যবস্থা থাকবে; রান্নাঘর ও কাপড় শুকানোর জায়গা রাখতে হবে; প্রাথমিক চিকিৎসার কিট ও ডাস্টবিন থাকতে হবে।

সাধারণ বাসার ক্ষেত্রে একজন কর্মীর জন্য একটি কক্ষে ৩.৬ স্কয়ার মিটার জায়গা বরাদ্দ থাকতে হবে এবং ছয়জনের জন্য একটি বাথরুম, টয়লেট থাকবে। ডরমিটরির (হোস্টেল) ক্ষেত্রে প্রতিজনের জন্য একটি কক্ষে তিন বর্গমিটার জায়গা থাকতে হবে এবং ১৫ জনের জন্য একটি টয়লেট ও বাথরুম থাকবে।

একজন কর্মীর আবাসনের জন্য নিয়োগকর্তা সর্বনিম্ন যে সুবিধা দেবে সেগুলো হলো- একটি সিঙ্গেল বেড, যা আকারে ১.৭ বর্গমিটারের কম হবে না। যদি ডবল ডেক বেড হয় তাহলে দুই বেডের মধ্যে ফাঁকা জায়গা ০.৭ মিটারের কম হবে না। চার ইঞ্চি পুরত্বের ম্যাট্রেস, একটি বালিশ ও একটি কম্বল দেবে।

নিয়োগকর্তা একজন কর্মীকে একটি লকার দেবে, যেখানে তিনি ব্যক্তিগত মূল্যবান জিনিস রাখতে পারবেন। নিয়োগকর্তা নিজে আবাসন নিশ্চিত করতে পারেন কিংবা চুক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যবস্থাপনায় নিশ্চিত করবে, তবে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী কর্মীর সব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

 

বিদেশি কর্মীর আবাসন নিশ্চিতে এসব সুবিধা না দিতে পারলে নিয়োগকর্তা বা কোম্পানিকে প্রতিটি অপরাধের জন্য ৫০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জরিমানা দিতে হবে। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে প্রতিদিন এক হাজার রিঙ্গিত করে জরিমানা হবে।

নিয়োগকর্তারা আইন ও বিধি অনুযায়ী আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করছে না এমন চিত্র উঠে এসেছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও লেবার ডিপার্টমেন্টের অভিযানে। মালয়েশিয়ার সংসদে মানবসম্পদ উপমন্ত্রী আওয়াং হাশিম বলেছেন, ৪৬ দশমিক ৭১ শতাংশ নিয়োগকর্তা মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড অব হাউজিং অ্যান্ড এমেনিটিজ আইন মানেনি। ফলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, লেবার ডিপার্টমেন্ট ১৩ হাজার ৮৫টি কমপ্লায়েন্স নির্দেশনা ও তিন হাজার ২৮৯টি ইম্প্রুভমেন্ট নির্দেশাবলী জারি করেছে। তারা এক হাজার ১৬৯টি অনুসন্ধান করে তার মধ্যে ৮১৭টি জরিমানা ও ১৩৪টিকে আদালতের মাধ্যমে বিচারের সম্মুখীন করেছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় বিদেশি কর্মীর জন্য কেন্দ্রীয় আদর্শ আবাসন ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য উৎসাহিত করছে। এরই মধ্যে মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ডের নিচে বা খারাপ আবাসনের জন্য ফোর্সড লেবার ইস্যু উত্থাপন করেছে আন্তর্জাতিক আমদানিকারকরা। মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্মীদের অভাব-অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ‘ওয়ার্কিং ফর ওয়ার্কার’ নামক একটি ফ্রি অ্যাপ চালু করেছে, যার মাধ্যমে কর্মীরা অভিযোগ করতে পারছেন।

এছাড়া ফোর্সড লেবার ও অভিবাসী পাচার সংক্রান্ত অপরাধ ঘটতে দেখলে জানানোর জন্য কতিপয় দূতাবাস, এনজিও ও শ্রম অফিসে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে আইএলও ও মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। ফোর্সড লেবার ও মানবপাচার রোধে মালয়েশিয়া সরকার অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে মালয়েশিয়ায় আসা নতুন কর্মীরা যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো আবাসন সুবিধা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।