বিদেশফেরতদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে সরকার

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৭:৩৪ পিএম, ১৯ জুলাই ২০২১


করোনাকালে এখন পর্যন্ত চাকরি হারিয়ে ৪ লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। এতদিন পর্যন্ত তাদের জীবন এবং জীবিকা নিয়ে শঙ্কিত হতে হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি একনেকের নেওয়া ৪২৭ কোটি টাকার প্রকল্পে সরকার বিদেশফেরত ২ লাখ প্রবাসীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্রে জানা যায়, বিদেশফেরতদের নগদ টাকা, প্রয়োজন সাপেক্ষে ঋণ, এমনকি কেউ বিদেশ ফেরত যেতে চাইলে তাকে সনদসহ সব ধরনের সরকারি সহযোগিতা করা হবে।

গত ২৩ মার্চ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে হওয়া বাংলাদেশের একটি চুক্তিতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে এই প্রকল্পে ৪২৭ কোটি টাকা অর্থাৎ পুরো অর্থটিই ঋণ হিসেবে দেবে বলে জানা গেছে। আগামী  ২৮ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের কথা রয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বাস্তবায়ন করবে।

এ ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খালেক মল্লিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের অনেকেই কর্মহীন অবস্থায় আছেন। তাঁরা পরিবার–পরিজন নিয়ে অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্যস্তও। আর্থিক দুরবস্থার কারণে তাঁরা কিছু করতেও পারছে না। তাঁদের কথা বিবেচনা করেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ওই এক বছরে মোট ৪ লাখ ৮ হাজার ৪০৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে ফিরে এসেছেন। তাঁদের মধ্য থেকে দুই লাখ কর্মীকে বাছাই করা হবে তাঁদের আগ্রহ, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তার নিরিখে। কর্মী বাছাইয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এর বাইরে আরও ২৩ হাজার ৫০০ কর্মীকে বাছাই করে তাঁদের সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে সনদ দেওয়া হবে।
যদিও বিদেশফেরতদের সংখ্যা ৪ লাখ  ৮ হাজার ৪০৮ জন। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে দুই লাখ কর্মীকে ৩২ জেলা থেকে বাছাই করা হবে। অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে বিবেচিত জেলাগুলো হলো ঢাকা, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, রাঙামাটি, কুমিল্লা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা।
কীভাবে এত সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে এই ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, 'তাদের দক্ষতানুসারে ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ বিদেশে গাড়ি চালাতেন, কিন্তু এখন কোনো সনদ নেই, তাঁকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিটিআরসি) থেকে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে সনদ দেওয়া হবে। সেই সনদ দিয়ে চাইলে ওই কর্মী ফের বিদেশে যেতে পারবেন। কিংবা দেশের মধ্যেই গাড়ি চালাতে পারবেন। ওই কর্মীর যদি আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তাঁকে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কোনো বিদেশ ফেরত কর্মী যদি উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহের কথা জানান, তাঁকে এসএমই ফাউন্ডেশনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সেখান থেকে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কেউ যদি বড় কোম্পানিতে কাজ করার আগ্রহ দেখান, তাঁর সেই যোগ্যতা থাকে, তাঁকে শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রে (বিটাক) প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। আবার বিদেশ যেতে চাইলে সেই ব্যবস্থা করা হবে। এ প্রশিক্ষণের সময় দুই লাখ বিদেশফেরত কর্মীর প্রত্যেককে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে সম্মানি বাবদ।'
পরিকল্পনা পরিষদের সদস্য সচিব শরিফা খান জানান, এখন পর্যন্ত এটিকে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প বলা যায়। সফলতা আসলে ধীরে ধীরে সকল বিদেশফেরত কর্মহীনদের এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হবে।