মির্জা ফখরুলের শোক

জিয়াউর রহমানের প্রেস সেক্রেটারি সাংবাদিক কাফি খানের ইন্তেকাল

DhakaNANDI DhakaNANDI
প্রকাশিত: ০৫:৫৫ পিএম, ০২ জুলাই ২০২১

করতোয়া ডেস্ক : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রেস সেক্রেটারি, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের এক সময়ের সংবাদ পাঠক এবং অভিনেতা ও বাচিক শিল্পী কাফি খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ... রাজিউন)। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে ভার্জিনিয়া সেন্টার হাসপাতালে বৃহস্পতিবার (০১ জুলাই) বিকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে রাফি খান। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

সত্তরের দশকের শেষ থেকে আশির দশকের শুরুতে জিয়াউর রহমানের প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করা কাফি খান দীর্ঘদিন প্রোস্টেট ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক কাফি খান ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগ থেকে অবসর নেন ১৯৯৪ সালে। তারপর যুক্তরাষ্ট্রেই পরিবার ও স্বজনদের সান্নিধ্যে অবসর জীবন কাটাচ্ছিলেন।

কাফি খানের জন্ম ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশপরগনা জেলার বারাসাত এলাকার কাজীপাড়া গ্রামে। সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার জন্ম ১৯২৯ সালের ১ মে।

১৯৬৬ সালে কাফি খান প্রথমবার ভয়েস অব অ্যামেরিকার বাংলা বিভাগের কর্মী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে কর্মরত ছিলেন। তৎকালীন কিছু প্রবাসীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে জনমত গঠনে কাজ করেন তিনি।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলে কাফি খানকে তার প্রেস সচিব হিসেবে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান। কাফি খান সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। সাড়ে তিন বছর পর ১৯৮১ সালে জিয়া নিহত হন। এরপর ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভয়েস অব আমেরিকার চাকরি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী হন কাফি খান।

এদিকে কাফি খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম খান আলমগীর। শুক্রবার (০২ জুলাই) এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, মরহুম কাফি খান ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। একদিকে সাংবাদিকতা, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সবখানেই তার অসামান্য প্রতিভা তাকে এক স্বতন্ত্র মাত্রা দান করেছিল। বিচক্ষণতা ও সফলতার সাথে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রেস সেক্রেটারির গুরু দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জিয়াউর রহমানের সাথে দেশি-বিদেশী গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিবিড় যোগাযোগ ও সেতুবন্ধন রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

মির্জা ফখরুল মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সতীর্থ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।