১৫ মাসেও প্রত্যাহার হয়নি ছাত্রদলের ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

রাজকুমার নন্দী : বিএনপির হাইকমান্ডের আশ্বাস সত্ত্বেও দীর্ঘ ১৫ মাসেও প্রত্যাহার হয়নি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ। সংগঠনটির ষষ্ঠ কাউন্সিলকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির এক পর্যায়ে ২০১৯ সালের ২২ জুন তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়। বয়ষ্কদের দিয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ওই ১২ নেতা ও তাদের অনুসারীরা তখন আন্দোলনে নেমেছিলেন। পরবর্তীতে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন তারা। কিন্তু এ ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি দল। এদিকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হওয়ায় রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ছাত্রদলের সাবেক এই নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কেননা, বহিষ্কৃত থাকায় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে তাদেরকে বিবেচনায় নেয়নি ওই সংগঠন দুটির শীর্ষ নেতারা। ফলে তারা এখন এলোমেলো তথা দিকভ্রান্তের ন্যায় ঘুরছেন। অথচ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা ও যোগ্যতা অনুযায়ী তাদেরকে তখন যুব-স্বেচ্ছাসেবক দলে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির হাইকমান্ডের ওই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তখন আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন তারা। 

গত ফেব্রুয়ারিতে যুবদলের ১১৪ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়, সেটিকে অচিরেই পূর্ণাঙ্গ করা হতে পারে। এছাড়া চলতি মাসেই ঘোষণা করা হতে পারে স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক অথবা পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এমন প্রেক্ষাপটে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে যথাযথ মূল্যায়নের আশায় বিএনপির হাইকমান্ডের দিকে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে রয়েছেন ছাত্রদলের বহিষ্কৃত এই নেতারা। 

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ছাত্রদলের বহিষ্কৃত ১২ নেতা তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য চিঠি দিয়েছে। এ ব্যাপারে দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত হবে। তখন সেটা গণমাধ্যমকে জানানো হবে। এখন এ ব্যাপারে এর বেশি কিছু আমি জানি না। 

দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ছাত্রদলের বহিষ্কৃত ১২ নেতার বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজে দেখছেন। তিনিই তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিবেন। 

এদিকে ছাত্রদলের বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতা অনুযোগের সুরে দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজনৈতিকভাবে আমাদের দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে সংকট নিরসনে তখন দলটির যেসব নেতা আমাদের সাথে আলোচনা করেছিলেন, মধ্যস্থতার ভূমিকায় ছিলেন- তারা এখন পুরোপুরি চুপ হয়ে গেছেন। তারা যদি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বিষয়টি একটু মনে করিয়ে দিতেন, তাহলে আমাদের ব্যাপারটি এতোদিনে সমাধান হয়ে যেত।

যেভাবে আন্দোলনের সূত্রপাত : ঈদের একদিন আগে গত বছরের ৩ জুন রাজীব-আকরামের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। একইসঙ্গে কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনটি যোগ্যতা নির্ধারণী শর্তও ঠিক করে দেওয়া হয়। শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল- প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হতে হবে। সেইসাথে ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী যেকোনো বছরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। 

তবে ওই শর্তের বিরোধিতা করে ঈদের পর ১১ জুন থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে আন্দোলনে নামে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির একটি অংশ। অতীতের ধারাবাহিকতায় বয়ষ্কদের দিয়ে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের দাবি ছিল তাদের। সেদিন তারা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন, কার্যালয়ের ভেতরে রুহুল কবির রিজভীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে কার্যালয়ের নিচে রিজভীকে অপদস্থও করা হয়। এরপর ২২ জুন ছাত্রদলের ১২জন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। 

বহিষ্কৃতরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহিরউদ্দিন তুহিন, বিলুপ্ত রাজীব-আকরামের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইখতিয়ার রহমান কবির, জয়দেব জয়, মামুন বিল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম-সম্পাদক বায়েজিদ আরেফিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, আব্দুল মালেক এবং সদস্য আজীম পাটোয়ারী। 

তবে তাদেরকে বহিষ্কার করা হলেও অব্যাহত থাকে আন্দোলন। অবশ্য একপর্যায়ে বিএনপির হাইকমান্ডের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা। পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। 

ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা এজমল হোসেন পাইলট বলেন, আমরা দলের ক্রান্তিকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশকে মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমাদের বহিষ্কারাদেশ এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাহলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আমাদের অর্জনটা কী?


আরও পড়ুন