৩১ সমাবেশের তারিখ পুনর্নির্ধারণ : বিএনপি

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৪, ২০২২, ০৮:০৫ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ১৪, ২০২২, ০৮:০৫ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

# খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : দেশে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন করে আরোপ করা বিধিনিষেধকে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অগণতান্ত্রিক ও দমনমূলক বলে মনে করছে বিএনপি। তাই জনস্বার্থ ও প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে চলমান সভা-সমাবেশের তারিখ পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তবে নতুন কোনো তারিখ জানানো হয়নি। 

আজ শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। 

চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতির দাবিতে দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৩৯ জেলায় ৮ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সমাবেশের ঘোষণা রয়েছে বিএনপির। ইতোমধ্যে ৮টি জেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে উন্মুক্ত স্থানে সভা-সমাবেশের ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারির পরপরই বিএনপির স্থাযী কমিটির বৈঠকে চলমান কর্মসূচির তারিখ পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হতে পারে; হাটবাজার, যানবাহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে; দোকানপাট, শপিংমল খোলা রাখা যাবে; সারাদেশে মেলার আয়োজন করা যাবে এবং মুজিববর্ষ পালনের কর্মসূচি দীর্ঘায়িত করা যাবে- সেখানে উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করার কোনো যুক্তিসংগত কারণ থাকতে পারে না। 

তিনি বলেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিএনপির আন্দোলনের যে কর্মসূচি চলছিল, সেটাকে বাধাগ্রস্ত করা। গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের যেসব কাজ আছে, সেসবই করছে এই সরকার। অগণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে এটাই স্বাভাবিক। 

বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার করোনার ডেল্টা ও অমিক্রন ধরন প্রতিরোধে যতটা না আগ্রহী, তার চেয়েও বেশি আগ্রহী বিরোধী দল দমনের সুযোগ খোঁজায়। ১১ দফা নির্দেশাবলী জারি হওয়ার আগেও আমাদের দেশের বহু স্থানে সভা-সমাবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকারের বিধিনিষেধের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অথবা স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সাংঘর্ষিক। সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় এ নির্বাচনকে স্থগিত করতে এ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে সরকার অনুরোধ করেনি। অতএব এ বিধিনিষেধ যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। 


 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়