খালেদা জিয়ার কিছু হলে জনগণ সরকারকে রেহাই দেবে না

DhakaNANDI DhakaNANDI
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১

# ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে ফখরুল
# চতুর্থ দফায় রক্তক্ষরণ হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে জনগণ আওয়ামী লীগের সরকারকে রেহাই দেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীতে এক সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। 

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা (সরকার) বলেন- আইনের কারণে খালেদা জিয়াকে বাইরে যেতে দিতে পারছি না। কেন মিথ্যা কথা বলেন। এখানে অনেক আইনজীবী আছেন- তারা বলছেন, ওই ৪০১ ধারাতে বলা আছে একমাত্র সরকার, সরকারই পারে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে। এখন দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ সরকারের। দেশনেত্রীর যদি সুচিকিৎসা না হয়, যদি তার ক্ষতি হয়- এ দেশের মানুষ কোনোদিন আপনাদের রেহাই দেবে না। দায় সব আপনাদেরকে বহন করতে হবে। 

বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব জানান, গতকালও (সোমবার) তার রক্তক্ষরণ হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে তা বন্ধ করতে সমর্থ্য হয়েছেন। 

তিনি বলেন, দেশনেত্রী মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আমরা যেটা আশঙ্কা করেছিলাম, যেটা ভয় পাচ্ছিলাম- যেকোনো সময় আবার রক্তক্ষরণ হতে পারে, কালকে (সোমবার) আবারও রক্তক্ষরণ হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমত আমাদের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে গত তিনটা সংকট যেভাবে পার হয়েছেন সোমবার রাতেও সেই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। 

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যাডাম এখন আগের চেয়ে অনেকটা ভালো। তবে এই ভালো ভালো নয়। কার চিকিৎসকরা পরিষ্কার করে বলেছেন যে, তার যে অসুখ সেই অসুখের চিকিৎসা এখন আর এখানে নেই। এই চিকিৎসা করতে হলে তাকে অবশ্যই বিদেশে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে, সেখানে উন্নত চিকিৎসা সম্ভব। 

গত ১৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। 

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় এই সমাবেশ হয়। বেলা ১১টা থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপির বিভিন্ন থানা থেকে নেতা-কর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দেয়। সমাবেশ শুরু হয় দুপুর দেড়টায়, শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। 

সমাবেশের শুরুতে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ নেসারুল হক খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন। 

কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরা থেকে ফকিরেরপুল সড়কের দুইপাশে হাজার হাজার নেতাকর্মীর তিল পরিমাণ ঠাই ছিল না। রাস্তায় বসে তারা নেতাদের বক্তব্য শুনে। সমাবেশে ৪টি ছোট ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। 

খালেদা জিয়াকে বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে রাজধানী ছাড়াও ৮ সাংগঠনিক বিভাগীয় শহরেও একযোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

সমাবেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কূটনীতিক-বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের সামনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- আমরা বেগম জিয়ার কাগজপত্র বিদেশে পাঠিয়েছি। কেন বলছেন? বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা-রাষ্ট্রদূতরা ইতোমধ্যে চাপ সৃষ্টি করেছে সরকারের ওপরে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে পাঠাও চিকিৎসার জন্যে।’ 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। বিশেষ করে তরুণ-ছাত্র-যুবক ভাইদের জেগে উঠতে হবে। মানুষের অধিকার-ভোটের অধিকার আদায়, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা ও দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আমাদের সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে। আন্দোলন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে সরাব এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করব। 

তিনি বলেন, এক হাজারটা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। দেখেন শুরু হয়েছে পতন। অর্ধেকের বেশি ইউপিতে হেরে গেছে আওয়ামী লীগ। 

ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং আমিনুল হক ও রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির মঈন খান, সেলিমা রহমান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আবদুস সালাম,  খায়রুল কবীর খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, অঙ্গসংগঠনের মধ্যে যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, লিয়াকত আলী, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
 


আরও পড়ুন