‘ছোট অপারেশন’র পর সুস্থ আছেন খালেদা জিয়া 

DhakaNANDI DhakaNANDI
প্রকাশিত: ০৮:৫৬ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২১

# বায়োপসির জন্য নমুনা সংগ্রহ
# দেওয়া হয়েছে কেবিনে
# ফখরুল জানালেন ‘বিপদমুক্ত’

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : বায়োপসির জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শরীর থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে আসলে তার কী হয়েছে। বায়োপসির জন্য সোমবার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ছোট অস্ত্রোপচার করা হয় তার। 

বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। 

এদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা খবর প্রকাশের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বায়োপসির জন্য সফল অস্ত্রোপচারের পর এখন সুস্থ আছেন খালেদা জিয়া। তিনি বিপদমুক্ত। সি ইজ আউট অব ডেনজার। কোনো রকম বিপদের সম্ভাবনা নেই বলে তারা (চিকিৎসকরা) মনে করেন।

 

বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন তিনি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকুন যে- বেগম খালেদা জিয়া একদম সুস্থ আছেন। কিছুক্ষণ আগে তার সঙ্গে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কথা বলেছেন, তার ভাই (শামীম এস্কান্দার) কথা বলেছেন। এছাড়া ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের সঙ্গেও কথা বলেছেন। ডাক্তার সাহেব যে দু’জন ছিলেন, তারা আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ভালো আছেন। 

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখলেন ওনার একটি ছোট বায়োপসি করা প্রয়োজন। কারণ, ছোট একটা লাম্প (ষঁসঢ়) আছে শরীরের এক জায়গায়। এই লাম্পের নেচার অব অরিজিন জানতে হলে বায়োপসি করা প্রয়োজন। সেজন্য আজকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে বায়োপসি করা হয়েছে এবং তাতে কোনো সমস্যা হয়নি। 

‘লাম্পের’ ব্যাখ্যায় অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ‘লাম্প শব্দের অর্থ হচ্ছে ছোট চাকা। ইট ইজ নিয়ারলি ১.২ সেন্টিমিটার ইন সাইজ।’ 

বিএনপি চেয়ারপারসনের দেহের কোথায় এটা হয়েছে- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি ‘রোগীর প্রাইভেসি’র বিষয়টি উল্লেখ করে সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। 

তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার বুকে চামড়ার নিচে ফোসকার মতো দেখা দেওয়ায় তা অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। 

ডা. জাহিদ বলেন, বায়োপসি পরবর্তীতে উনার প্যারামিটারগুলো এই মুহূর্তে স্টেবল আছে। উনি সার্জিক্যাল আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। 

তবে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বেগম জিয়াকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। 

বায়োপসির প্রতিবেদন কবে নাগাদ পাওয়া যাবে- জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. জাহিদ বলেন, বায়োপসির প্রতিবেদন পেতে সায়েন্টিফিক্যালি ৭২ ঘন্টা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২১ দিন সময় লাগতে পারে। কারণ, এর জেনেটিক স্টাডি করার প্রয়োজন। কাজেই এর রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। খালেদা জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসা কী হবে, বায়োপসি প্রতিবেদনের ওপর তা নির্ভর করছে বলে জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে মির্জা ফখরুল আবারও উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘আমরা বহুবার বলেছি, উনার পরিপূর্ণ চিকিৎসার অ্যাডভান্স সেন্টার এখানে নেই। এজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বাইরে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এর জন্য কোনো আইনগত বাধা আছে বলে মনে করি না। কারণ, এই মামলায় জামিন তার প্রাপ্য, এটা তার প্রতি দয়া নয়। সরকারের উচিত অবিলম্বে তাকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া। 

খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসা যদি না পায় তার জন্য সরকারকেই ‘একশ ভাগ’ দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে বলে হুশিয়ারিও দেন বিএনপি মহাসচিব। 

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মো. আল মামুনও উপস্থিত ছিলেন।

গত কয়েকদিন যাবত খালেদা জিয়া জ্বর অনুভব করার পর গত ১২ অক্টোবর তাকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসাধীন। 

দুর্নীতির মামলায় দ-িত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনাভাইরাসের মহামারি শুরুর পর পরিবারের আবেদনে গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ তাকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। মুক্তির পর থেকে তিনি গুলশানের বাসা ফিরোজায় রয়েছেন। তবে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়েছিল তার পরিবার। কিন্তু সরকার বলেছে, সাময়িক মুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাকে দেশে রেখেই চিকিৎসা দিতে হবে। 

খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ও চোখের সমস্যায় ভুগছেন। ফিরোজায় অবস্থানের সময় গত এপ্রিলে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। কোভিডোত্তর জটিলতায় ২৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস সিসিইউতে ছিলেন। পরে ১৯ জুন মেডিকেল বোর্ড বাসায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে ছাড়পত্র দেয়। তবে কোভিড থেকে মুক্ত হলেও তিনি নতুন করে কিডনি ও লিভারের জটিলতায় আক্রান্ত হন। বাসায় ফেরার চার মাসের মাথায় খালেদা জিয়াকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

এদিকে খালেদা জিয়াকে দেখতে রোববার (২৪ অক্টোবর) রাতে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসেন তার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। 


আরও পড়ুন