আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকায় থাকবে স্বেচ্ছাসেবক দল : আলহাজ্ব জামির হোসেন

DhakaNANDI DhakaNANDI
প্রকাশিত: ০৯:৪৭ পিএম, ০৮ অক্টোবর ২০২১

# চলতি মাসেই সম্পন্ন হবে খুলনা টিমের কাজ

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির তিন ‘নিউক্লিয়াস’র একটি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর সংগঠনটির সাত সদস্যের আংশিক কমিটির পর গত বছর সেপ্টেম্বরে দুই দফায় ১৮৬ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন করে বিএনপি। এরপর তৃণমূলে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবক দলের ১২টি বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়। এসব টিমের তত্ত্বাবধানে সংগঠনের সারাদেশের ৯৪০টি ইউনিটে (উপজেলা-থানা-পৌর) আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়। 

তবে করোনা মহামারির কারণে সংগঠনটির তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। তবে বর্তমানে দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আগামী নির্বাচন ও আন্দোলনকে সামনে রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপির হাইকমান্ড। এ লক্ষ্যে গত মাসের প্রথমদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের টিম লিডারদের সাথে বিএনপির হাইকমান্ডের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। সেখানে অক্টোবর মাসের মধ্যেই তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে টিম লিডারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার পর পুনর্গঠন কাজে গতি সঞ্চার হয়। অন্য টিমের মতো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনর্গঠন কাজ সম্পন্ন করতে তৎপর হয় খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমও। 

জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দল খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের অন্তর্গত ১০টি জেলা ও ১টি মহানগরীতে সর্বমোট ১০৩টি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে গত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৩টি ইউনিট কমিটি প্রকাশিত হয়েছে। আর যশোর জেলার ঝিকরগাছা পৌর ও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা-এই দুটি ইউনিট কমিটি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় দফতরে জমা রয়েছে। বাকি ২৮টি ইউনিটের কর্মিসভা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে নড়াইলের ৭টি, সাতক্ষীরার ৯টি এবং বাগেরহাট জেলার ১২টি ইউনিট রয়েছে। এসব ইউনিটের কমিটি গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসের ২০ তারিখের মধ্যেই এসব কমিটি দফতরে জমা দেয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রত্যয়ী খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের প্রধান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. জামির হোসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার ৯টি ইউনিটের সবগুলো কমিটিই প্রকাশিত হয়েছে। কমিটিগুলো হলো-জীবননগর থানা, জীবননগর পৌর, দর্শনা থানা, দর্শনা পৌর, দামুড়হুদা থানা, আলমডাঙ্গা থানা, আলমডাঙ্গা পৌর, চুয়াডাঙ্গা সদর ও চুয়াডাঙ্গা পৌর।

যশোর জেলার ১৬টি ইউনিটের মধ্যে ১৫টিই প্রকাশিত হয়েছে। কমিটিগুলো হলো-যশোর সদর থানা, চৌগাছা থানা, চৌগাছা পৌর, অভয়নগর থানা, কেশবপুর থানা, কেশবপুর পৌর, মনিরামপুর থানা, মনিরামপুর পৌর, বাঘারপাড়া থানা, বাঘারপাড়া পৌর, যশোর পৌর, নওয়াপাড়া পৌর, ঝিকরগাছা উপজেলা, শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌর। ঝিকরগাছা পৌর কমিটি কেন্দ্রীয় দফতরে জমা রয়েছে।

খুলনা জেলার ১১টি ইউনিটের সবগুলোই প্রকাশিত হয়েছে। কমিটিগুলো হলো- রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, কয়রা, দাকোপ থানা, চালনা পৌর (দাকোপ থানার অন্তর্গত), পাইকগাছা থানা, পাইকগাছা পৌর ও ফুলতলা উপজেলা।

খুলনা মহানগরীর ৫টি ইউনিটের সবগুলোই প্রকাশিত হয়েছে। কমিটিগুলো হলো-খালিশপুর থানা, দৌলতপুর থানা, খানজাহান আলী থানা, সোনাডাঙ্গা থানা ও সদর থানা।

মাগুরা জেলার ৬টি ইউনিটের সবগুলোই প্রকাশিত হয়েছে। কমিটিগুলো হলো- মাগুরা সদর থানা, সদর পৌর, দক্ষিণ মাগুরা, শ্রীপুর উপজেলা, মোহাম্মদপুর থানা ও শালিখা থানা।

কুষ্টিয়া জেলার ১১টি ইউনিট কমিটির সবগুলোই প্রকাশিত হয়েছে। কমিটিগুলো হলো- দৌলতপুর উপজেলা, মিরপুর উপজেলা, মিরপুর পৌর, ভেড়ামারা উপজেলা, ভেড়ামারা পৌর, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, কুষ্টিয়া সদর পৌর, কুমারখালী উপজেলা, কুমারখালী পৌর, খোকশা উপজেলা ও খোকশা পৌর।

মেহেরপুর জেলার ৫টি ইউনিট কমিটির সবগুলোই প্রকাশিত হয়েছে। কমিটিগুলো হলো-মেহেরপুর সদর উপজেলা, মেহেরপুর পৌর, মুজিবনগর উপজেলা, গাংনী উপজেলা ও গাংনী পৌর।

ঝিনাইদহ জেলার ১২টি ইউনিট কমিটির মধ্যে ১১টি প্রকাশিত হয়েছে। কমিটিগুলো হলো-হরিণাকুন্ডু উপজেলা, হরিণাকুন্ডু পৌর, কোটচাঁদপুর উপজেলা, কোটচাঁদপুর পৌর, শৈলকুপা উপজেলা, শৈলকুপা পৌর, কালীগঞ্জ উপজেলা, কালীগঞ্জ পৌর, সদর পৌর, সদর উপজেলা ও মহেশপুর পৌর। মহেশপুর উপজেলা কমিটি কেন্দ্রীয় দফতরে জমা রয়েছে।

নড়াইল জেলার ৭টি ইউনিটের সবগুলোর কর্মিসভা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেগুলো হলো-নড়াইল সদর উপজেলা, নড়াইল পৌর, লোহাগড়া উপজেলা, লোহাগড়া পৌর, কালিয়া উপজেলা, কালিয়া পৌর ও নড়াগাতী।

সাতক্ষীরা জেলার ৯টি ইউনিটের সবগুলোর কর্মিসভা সম্পন্ন হয়েছে। সেগুলো হলো-সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা পৌর, কালীগঞ্জ উপজেলা, শ্যামনগর উপজেলা, তালা উপজেলা, কলারোয়া উপজেলা, কলারোয়া পৌর, আশাশুনি উপজেলা ও দেবহাটা উপজেলা।

বাগেরহাট জেলার ১২টি ইউনিটের সবগুলোর কর্মিসভা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেগুলো হলো-মোল্লাহাট উপজেলা, চিতলমারী উপজেলা, ফকিরহাট উপজেলা, কচুয়া উপজেলা, বাগেরহাট সদর উপজেলা, বাগেরহাট পৌর, রামপাল উপজেলা, মোংলা উপজেলা, মোংলা পৌর, মোড়েলগঞ্জ উপজেলা, মোড়েলগঞ্জ পৌর ও শরণখোলা উপজেলা। এই ২৮টি ইউনিটের কমিটি গঠনের কাজ এখন চলমান রয়েছে।

গত ২ অক্টোবর বাগেরহাটে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের প্রধান আলহাজ্ব মো. জামির হোসেন বলেন, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কখনো সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন বিএনপি মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, জনসম্পৃক্ত তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করেই আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। আর সেই আন্দোলনে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মাঠে থাকবে। এক্ষেত্রে রাজপথে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল থাকবে অগ্রণী ভূমিকায়।

স্বেচ্ছাসেবক দল খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টিমের প্রধান আলহাজ্ব মো. জামির হোসেন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের অন্তর্গত ১০টি জেলা ও ১টি মহানগরীতে সর্বমোট ১০৩টি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৩টি ইউনিট কমিটি প্রকাশিত হয়েছে। আর দুটি কমিটি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় দফতরে জমা রয়েছে। বাকি ২৮টি ইউনিটের কর্মিসভা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এসব ইউনিটের কমিটি গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি, সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব কমিটি কেন্দ্রীয় দফতরে জমা দিতে পারব।


 


আরও পড়ুন