চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হয়নি

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০২:২০ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। সাড়ে ১৯ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ দিন পর্যন্ত ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৯০২ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহ করা গেছে। ঘাটতি ১০ লাখ ৬ হাজার ৯৪ মেট্রিক টন। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি রোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও কোনো খাদ্য সংকট হবে না। বর্তমানে সাড়ে ১৪ লাখ মেট্রিক টন চাল মজুত রয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ৩১ আগস্ট ছিল শেষ দিন। তবে ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু করে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও সংগ্রহ করতে পারেনি সরকার। এ কারণে সময় আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর করা হয়। সর্বশেষ সময় পার হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ১০ লাখ ৬ হাজার ৯৪ মেট্রিক টন ঘাটতি রয়েছে।

জানা গেছে, খাদ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি, লটারি করতে প্রায় দেড় মাস সময় পার হওয়া, গুদামে ধান দিতে গিয়ে নানা ঝক্কি ঝামেলায় কৃষকের আগ্রহ হারানো, উৎকোচ দেয়া, করোনা, লাগাতার বৃষ্টি, বন্যার কারণে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল থেকে বোরো ধান এবং ৭ মে থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ সময় বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী- ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ লাখ মেট্রিক টন। তবে শেষদিন গতকাল পর্যন্ত বোরো ধান সংগ্রহ করা হয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন। সিদ্ধ চালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ লাখ মেট্রিক টন। সংগ্রহ হয়েছে ৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৭ মেট্রিক টন। আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। সংগ্রহ হয়েছে ৯৪ হাজার ৩৪৭ মেট্রিক টন। আপৎকালীন মজুতের জন্য সরকার প্রতি বছর আমন ও বোরো মৌসুমে স্থানীয় চালকল মালিকদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে চাল সংগ্রহ করে থাকে। এবার করোনার কারণে চলতি বোরো মৌসুমে সরকার এ সংগ্রহ অভিযানকে আরও বেশি গুরুত্ব দেয়। এজন্য এবার ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অন্যবারের চেয়ে আরও বেশি ধরা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লটারি করতে করতেই প্রায় দেড় মাস চলে যায়। এর মধ্যেই কৃষকের হাত থেকে ধান মজুতদারদের গুদামে চলে গেছে। ফলে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সফল হয়নি।

জানা গেছে, ধান-চাল সংগ্রহের সময় প্রায় ১০ জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক, বেশকিছু উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গুদাম ইনচার্জকে বদলি করা হয়েছে। ধান-চাল সংগ্রহের এই সময় তাদের বদলি করার কারণে অনেক জায়গায় ধান-চাল সংগ্রহ করা যায়নি। কারণ একজন খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে স্থানীয় মিলার এবং ধান সরবরাহ কৃষকসহ অনেকের একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের নিজস্ব সম্পর্কের কারণেই তারা ধান-চাল সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু এই সময় হঠাৎ বদলির ঘটনা সবকিছু থমকে দিয়েছে। ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, নীলফামারী, গাজীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের বদলি করা হয়েছে। ধান-চাল সংগ্রহের সময় আগে কখনো এমন বদলির ঘটনা ঘটেনি।


আরও পড়ুন