লবিস্ট নিয়োগ: সুর পাল্টালেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৫, ২০২২, ০৭:১৪ বিকাল
আপডেট: জানুয়ারী ২৫, ২০২২, ০৭:১৪ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে এমন বক্তব্যর ৫ মিনিটের মাথায় আগের বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এবার তিনি বললেন, বিএনপি যা করে দেশ রক্ষার জন্য করে। মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে ব্যবহার করে দেশকে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে আওয়ামী লীগ। এর দায় সরকারকে নিতে হবে।

করোনামুক্ত হয়ে প্রথমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থায়ী কমিটির নেওয়া নানা সিদ্ধান্ত জানাতেই দলটির এ আয়োজন।


মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় রাজধানীর গুলশান চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে ব্যবহার করে দেশকে ভয়াবহ ঝুঁকিতে ফেলেছে বর্তমান সরকার।
 
ফখরুল আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য হত্যা, খুন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য র‌্যাবসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। আর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বাংলাদেশের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ পরিস্থিতি সৃষ্টির সব দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।

ব্রিফিং শেষে উঠে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল জানান, দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় লবিস্ট নিয়োগের কথা।

তিনি বলেন, বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে দেশকে রক্ষা করার জন্য এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য। দুর্বৃত্তদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য। এর ৫ মিনিট পর লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে আবারও গণমাধ্যমের সামনে হাজির মির্জা ফখরুল। সরে আসেন আগের বক্তব্য থেকেও।
 
তিনি বলেন, আমরা যা কিছু করি দেশকে রক্ষা করার জন্য করি, তার মানে এই না যে, দেশের বিরুদ্ধে লবিস্ট নিয়োগ করেছি। এটি পরিস্কারভাবে আপনাদের (সাংবাদিক) বলে দিচ্ছি, আমরা যা কিছু করি দেশকে রক্ষার জন্য করি, দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য করি।

তাড়াহুড়ো করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার- ইসি নিয়োগে আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টা আওয়ামী লীগের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার নীল নকশা  বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি মনে করে যেহেতু এ সংসদ জনগণের ভোটে বৈধভাবে নির্বাচিত নয় সেহেতু এ সংসদের কোনো নৈতিক এখতিয়ার নেই এ ধরনের কোনো আইন প্রণয়ন করার। গোপনীয়তার সঙ্গে তাড়াহুড়ো করে এ আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টা আওয়ামী লীগের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার নীল নকশা মাত্র। তাছাড়া বিএনপি মনে করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো নির্বাচন কমিশনেই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সফল হবে না যদি না নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের একতরফা সাজানো ভোটার বিহীন ও মধ্যরাতের ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
 
তিনি আরও বলেন, বিএনপি মনে করে বর্তমান আওয়ামী লীগের অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ, এর কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি ও জনগণের ঐক্য গড়ে তুলে দুর্বার গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়