বগুড়ায় ৫ জনসহ নির্বাচনী সহিংসতা নিহত ১৩

প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৫, ২০২২, ১০:৫৯ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ০৫, ২০২২, ১০:৫৯ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

রক্তাক্ত সংঘাত-সংঘর্ষে শেষ হলো পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। পঞ্চম ধাপের এই ভোটে প্রাণ গেছে অন্তত ১৩ জনের। বগুড়ার গাবতলীতে ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের ৫ম ধাপের নির্বাচনে বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের কালাইহাটা ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনার সময় ব্যালট পেপার ছিনতাইকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হয়েছে। এছাড়া রামদার কোপে আরও একজন মারা গেছে। এসময় প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুরসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও আহত হয়েছেন।


এছাড়া বুধবার নির্বাচনী সহিংসতায় চাঁদপুরে ২ জন এবং চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, জামালপুর, গাইবান্ধা, মৌলভীবাজার ও নঁওগায় একজন করে নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক। বুধবার ভোটের দিন সকালটা শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও বেলা গড়াতেই বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। কেন্দ্র দখল, জালভোট, প্রতিপক্ষের এজেন্টকে বের করে দেয়াসহ ছিলো নানা অভিযোগ। ভোট গণনার সময়ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে বুধবার সকাল ৮টায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। যা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভিড় বাড়তে থাকে। তবে কেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কুয়াশা কেটে সূর্যের উঁকি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে বাড়তে থাকে বিশৃঙ্খলা। একে একে আসতে থাকে সংঘাত, অনিয়ম আর সংঘর্ষের খবর।
আমাদের গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি এনামুল হক জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহতরা হলেন কালাইহাটা  গ্রামের মকবুলের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪০), ইফাত উল্লাহর ছেলে আব্দুর রশিদ (৪৫), ছহির উদ্দিনের ছেলে খোরশেদ (৭০) এবং খোকনের স্ত্রী কুলসুম আকতার (৩৫)। গতরাত ১০ টার দিকে গাবতলী থানার ওসি মো: জিয়া লতিফুর রহমান এই চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় গাবতলী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার কারণে প্রায় ইউনিয়নে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছিল।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে বুধবার বেলা ২টায় রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের জাইগুলি হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রের বাইরে ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী ডাঃ সাহিদুল ইসলাম (টিউবওয়েল মার্কা) ও ইউপি সদস্য প্রার্থী ফেরদৌস হোসেন মিঠু (ফুটবল মার্কা) সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলছিল। এ সময় স্থানীয় ফিন্যানশিয়াল অলনাইন’এর সাংবাদিক পরিচয় দেয়া বগুড়ার নিরাপদ সড়ক চাই এর সদস্য জাইগুলি গ্রামের মৃত নঈম উদ্দিন ওরফে লয়া মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন জাকির (২৮) ওই সংঘর্ষের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গেলে ফেরদৌস হোসেন মিঠুর লোকজন রামদার কোপে গুরুতর জখম করে। আহত জাকিরকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিলে ওইদিন বিকেল ৩টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া ভোটগ্রহণ চলাকালে বেলা সোয়া ১১টায় রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের পাঁচকাতুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপ ছাড়াও ৪টি ককটেলের বিস্ফোরণ ও কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটে। এতে বেলা সাড়ে ১১টায় ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। ৩ঘন্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রিজাইডিং অফিসার আমিনুল ইসলাম দুপুর আড়াইটায় পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু করেন। এছাড়াও রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের সাগাটিয়া ভোটকেন্দ্রে ৬টি, কালাইহাটা ভোটকেন্দ্রে ৩টি ও শুভপাড়া ভোটকেন্দ্রে ৪টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।  
অপর দিকে বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের কালাইহাটা ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনার সময় আনুমানিক সাড়ে ৫টায় বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনুছ ফকিরের নেতৃত্বে নৌকা মার্কার সমর্থকরা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী মারা যান। এ সময় কমপক্ষে ৪০জন আহত হন। এছাড়াও রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে।
গাবতলী মডেল থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, কালাইহাটা ভোটকেন্দ্র ভোট গণনার সময় ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে তিনজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা মারা গেছেন। এছাড়াও জাইগুলি ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী সাহিদুল ও ফেরদৌস হোসেন মিঠু’র সমর্থকদের মারামারি চলাকালে জাকির হোসেন জাকির রামদার আঘাতে মারা যান।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত ৪জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি বালিয়াদিঘী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ নেওয়াজ জাকি জানান।
বগুড়া র‌্যাব-১২ এর কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, জাইগুলি হাইস্কুলের পূর্বপার্শ্বে দোকানের পেছনে বাজারের ব্যাগে রাখা পরিত্যক্ত অবস্থায় ৮টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গাবতলীর ইউএনও রওনক জাহান জানান, তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগে ৪জনকে ৫হাজার ৮’শ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। উপজেলার দূর্গাহাটা ইউনিয়নের বাইগুনি গ্রামের বাবলুর ছেলে নীরব (৩৫) এর কাছে ধারালো অস্ত্র (চাকু) থাকায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা, মহিষাবান ইউনিয়নের মরিয়া গ্রামের ছলেমান শেখের ছেলে রুবেল (৩২) গাবতলী সদর ইউনিয়নের তরফসরতাজ ভোটকেন্দ্রে ঘোরাফেরা করায় ১’শ টাকা জরিমানা, ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে মোটর সাইকেল চালানোর অপরাধে সাবগ্রামের মানিকের ছেলে রাকিবুল (৩০) এর কাছ থেকে ৩’শ টাকা এবং একই কারণে রামেশ্বরপুরের মৃত আবুল কালামের ছেলে খাজা নাজিমুদ্দিনের কাছ থেকে ৪’শ টাকা জরিমানা আদায় করেন।
এ দিকে, গুলিবিদ্ধ আব্দুল্লাহ (৪৫), ছহির উদ্দিন (৪৫) ও রাকিব হোসেন (১৬) কে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চাঁদপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ২ : চাঁদপুরের হাইমচর-কচুয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় দুজন নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের বাহের চর ও কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, উপজেলার নীলকমল দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের ৩০০ মিটার দূরে একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে তাকে বহিরাগত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।  অপরদিকে কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নে দুই মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষে শরীফ হোসেন নামের একজন নিহত হয়েছেন। তিনি ইউনিয়নের হাতিরবন্ধ গ্রামের শহীদুল্লাহর ছেলে।
গাইবান্ধার সাঘাটায় ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষে সদস্য প্রার্থীর সমর্থক নিহত ১ : গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী ইউপি নির্বাচনে দুই সদস্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আবু তাহের নামে এক সমর্থক নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে। নিহত আবু তাহের উপজেলার মামুদপুর গ্রামের ওমর আলীর ছেলে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার বেলা ৩ টায় উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়নের জুমারবাড়ী আদর্শ কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমারবাড়ী আদর্শ কলেজ কেন্দ্রে সদস্য প্রার্থী আজিজুল ইসলামের (টিউবওয়েল প্রতীক) সমর্থকদের সাথে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী রাসেল মাহমুদের (বৈদ্যুতিক পাখা) সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এসময় রাসেল মাহমুদের সমর্থকদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আবু তাহের গুরুতর আহত হলে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মতিউর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া দহিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বসন্তেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর দীঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক ভোটকেন্দ্রে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে।
মানিকগঞ্জে দুই প্রার্থীর সংঘর্ষের মাঝে পড়ে নারী নিহত : মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে ভোটকেন্দ্রের পাশে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে সমেলা খাতুন (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের বাঁচামারা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সলেমা ওই এলাকার মাহাতাবের স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা। তানিয়া সুলতানা জানান, বাঁচামারা ইউনিয়নের ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই নারী মাঝে পড়ে নিহত হন।
চট্টগ্রামে নিহত ১ : প্রাণহানি, দুই প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল, গণমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চট্টগ্রামে পঞ্চমধাপের ইউপি নির্বাচন। বুধবার চট্টগ্রামের ৩ উপজেলার ২৪ ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন চলাকালে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে অংকুর দত্ত (৩৮) নামে একজন নিহত হয়েছে। চাতরী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান থানা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আনোয়ার খালেদ। তিনি মেম্বার প্রার্থী ধনঞ্জয় বিশ্বাসের সমর্থক বলে জানা গেছে। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে এই সংঘর্ষ হয়। আপেল প্রতীকের মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় অংকুর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জামালপুরে নিহত ১, পুলিশের গাড়িতে আগুন : জামালপুরের বকশীগঞ্জে মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেরুরচর হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংর্ঘষ হয়েছে। এ ঘটনায় আল আমিন (২২) নামে একজন মৃত্যু হয়েছে। আল-আমিন বাঘাডুবা গ্রামের আচ্ছা মিয়ার ছেলে। সংর্ঘষে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট ও ওসি তদন্তসহ কমপক্ষে ৫ পুলিশ সদস্যসহ অর্ধাশতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আহত হয়েছেন। আহত গ্রামবাসীদের নাম তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের গাড়ি অগ্নিসংযোগসহ পুলিশের এএসপি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই শতাধিক রাউন্ড গুলিও করা হয়েছে। এ ঘটনায় জামালপুর পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোয়ার হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা একত্রিত হয়ে কেন্দ্রের মধ্যে হামলা চালায়। হামলায় এএসপি রাসেল ও বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আগুন দেওয়া হয় পুলিশের গাড়িতে। এ সময় চারটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেয় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২ শতাধিক রাউন্ড গুলি করা হয়। পরে র‌্যাব, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারে পরাজিত প্রার্থীর ভাইকে কুপিয়ে হত্যা : মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত মেম্বার প্রার্থী বেলাল আহমদের বড় ভাই হেলাল উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত ও দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের স্বজনরা জানায়, তালিমপুর ইউনিয়নের খুঠাউরা গ্রামের পরাজিত ইউপি মেম্বার প্রার্থী বেলাল আহমদের ছেলে নয়ন আহমদ নোশাদ বাড়ির পাশে রাস্তায় দাঁড়ানো ছিল। বিজয়ী ইউপি মেম্বার শাহীন আহমদের স্বজন আরজান আলী কটাইর ছেলে ছাদিকুর রহমান ও সফর উদ্দিন মোটরসাইকেলে নোশাদকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। ঘটনার প্রতিবাদ করলে তারা রাস্তার পাশের বেড়ার বাঁশ তুলে নোশাদকে বেধড়ক মারধর করে। খবর পেয়ে নোশাদের চাচা হেলাল উদ্দিন মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে মেম্বার শাহীন আহমদের ভাই আজিদ আলীর নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হেলাল উদ্দিনকে মারাত্মক জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ সময় দু’পক্ষের সংঘর্ষে হিফজুর রহমান, হাফেজ নাজিম, রাজু আহমদ, শাহ আলম, শেখ ফরিদ, মনসুর আহমদ, ছাদিকুর রহমান, সফর উদ্দিন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নওগাঁয় নিহত এক : নওগাঁয় পতœীতলা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পুলিশ ও সমর্থকদের সংঘর্ষ ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। নওগাঁ পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল মান্নান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভোটে সহিংসতা হলেও সার্বিকভাবে সফল বলছে ইসি। সহিংসতা ও প্রাণহানির দায় নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। এ ধাপে ভোট হয়েছে দেশের ৭০৮টি ইউপিতে। ইতোমধ্যে ভোটের আগেই ১৯৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়