ফের রক্তক্ষরণ হলে খালেদা জিয়ার মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে 

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২১, ০৯:০৪ রাত
আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২১, ০৯:০৪ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

# মেডিকেল বোর্ডের সংবাদ সম্মেলন
# দ্রুত অ্যাডভান্স সেন্টারে নেওয়া জরুরি

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশের অ্যাডভান্স সেন্টারে চিকিৎসা না দিলে তার জীবন রক্ষা করা কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক দলের সদস্যরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বেগম জিয়ার পাকস্থলীতে আবারও রক্তক্ষরণ হলে তার মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাবে। 

রোববার (২৮ নভেম্বর) রাত ৭টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে তার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা এ কথা বলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি- তার যদি পুনরায় পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ হয়, তাহলে সেটা বন্ধ করার মতো সাপোর্টিং টেকনোলজি আমাদের এখানে নেই। সেক্ষেত্রে উনার রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। 

এ সময় অধ্যাপক ডা. শামসুল আরেফিন বলেন, আমাদের বডিতে দুটি সার্কুলেশন সিস্টেম আছে। একটা হলো পোর্টাল সার্কুলেশন সিস্টেম, আরেকটা সিস্টেমিক সার্কুলেশন সিস্টেম। লিভারে দুটা সিস্টেমই কার্যকর। লিভারে টোটাল যে ব্লাডটা যায়, তার তিন ভাগের এক ভাগ যায় সিস্টেমিক সার্কুলেশন থেকে। আর তিন ভাগের দুই ভাগ যায় পোর্টাল সার্কুলেশন থেকে। 

তিনি আরও বলেন, এখানে যেটা হয়, তার পোর্টাল প্রেসার বেড়ে গেছে। কারণ তার লিভারের ভেতরের নরমাল চ্যানেলগুলো লিভার সিরোটিক প্রোসেসে ডিস্ট্রয় হয়েছে। যে কারণে পোর্টাল প্রেসার বেড়ে যায়, সেজন্য যেসব ভেন থাকে খাদ্যনালিতে, সেগুলো ফুসে ওঠে এবং ফেটে যায়। সেজন্য সিভিআর ব্লিডিং হয়। এই সিচুয়েশনে আমরা যেটা করেছি সেটা ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিস। এটার পরে আবার ব্লিডিং হলে আরও কিছু জিনিস আছে, যেগুলো আমরা করি স্পেশাল কিছু কেমিক্যাল এজেন্ট আছে, সেগুলো ইনজেক্ট করি অনেক সময়। আনফরচুনেটলি সেটা আমাদের দ্বারা সম্ভব হয়নি এবং এখন আমাদের দেশে সেই ওষুধগুলো পাওয়া যায় না।  

চিকিৎসক বলেন, তৃতীয়ত যেটা আছে, সেটা হলো সার্বজনীন। সেটা হলো টিপস। লিভারের ভেতরে টোটাল প্রেসার কমানোর জন্য সিস্টেমিক সার্কুলেশন এবং পোর্টাল সার্কুলেশনের মধ্যে একটা কমিউনকেশন করে দেওয়া। এটা একটা হাইলি টেকনিক্যাল কাজ। এটা সচরাচর হয় না। আমাদের দেশে আমি দেখিনি কোনো টিপস করা রোগী এসেছে। যারা আমরা রোগীদের ডিল করি তাদের দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার ব্লিডিং হলে রোগীদের সার্ভাইভ করা কঠিন। সেজন্য এ সেন্টারগুলো মেইনলি আমেরিকা ও ইউরোপ বেজড। স্পেশালি ইউকে-জার্মানি এবং ইউএসএ। এখানে এগুলোর জন্য অ্যাডভান্স সেন্টার আছে। তারা সেখানে করে। তবে সেসব দেশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে নেই। দু-চারটা সেন্টার আছে। বিশ্বের সব রোগীরা সেসব সেন্টারে যায়। 

অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়া আপাতত স্থিতিশীল আছেন। গত ২৪ ঘন্টায় তার রক্তক্ষরণ হয়নি। তবে এ ধরনের রোগীর পুনরায় রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা থাকে। তাকে চিকিৎসার যে ধরনের প্রযুক্তি দরকার সেসব আশেপাশের দেশ তো নেই এমনকি সিঙ্গাপুর ও ব্যাংককেও নেই। সুতরাং তাকে দ্রুত অ্যাডভান্স সেন্টারে নেয়া জরুরি। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. একিউএম মহসিন, অধ্যাপক ডা. নূর উদ্দিন, ডা. আল মামুন।  

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়