এমপি আসলামের পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ইকোনমিক জোন উচ্ছেদের পরামর্শ

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০

বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের দেড় শতাধিক বিঘা জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে এমপি আসলামের মাইশা পাওয়ার প্ল্যান্ট ও আরিশা ইকোনমিক জোন। সরকারের সংশ্লিষ্ট আটটি সংস্থার সুপারিশ নিয়ে এ প্রতিবেদন দিয়েছে নদীরক্ষা কমিশন। যার ফলে উৎসমুখ বন্ধ হয়ে সরু হয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা। বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বুড়িগঙ্গা, তুরাগ দখল করে গড়ে ওঠা মাইশা পাওয়ার প্ল্যান্ট ও আরিশা ইকোনমিক জোনের নামে মেরে ফেলা হয়েছে নদী। এক দুই একর নয়, দখল করা হয়েছে ৫৪ একর বা ১৬২ বিঘা নদীর জমি। বন্ধ হয়ে গেছে স্রোতস্বীনি নদীর উৎসমুখ। আর এতেই যা হওয়ার হয়ে গেছে। ভুগতে হচ্ছে রাজধানীসহ বুড়িগঙ্গা পাড়ের মানুষের।

সেই নদীর জায়গা দখলমুক্ত করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে বিআইডব্লিউটিএ। চলতি বছরের ১৩ মার্চ। বেসরকারি পাওয়ার প্ল্যান্ট উচ্ছেদ অভিযানে গেলে সরকারি সংস্থা বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের ওপর এভাবেই তেড়ে আসেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য আসলামুল হক। এক ইঞ্চি জমিও দখল করা নয় দাবি করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে একইভাবে পরের দিনও অভিযানে বাধা দেন তিনি।  

এ নিয়ে গত কয়েক মাসে জল ঘোলা কম হয়নি। জমি নিজের দাবি করে উচ্চ আদালতের তিনটি বেঞ্চে আলাদা আলাদাভাবে শরণাপন্ন হন আসলামুল হক। পরে আদালতের নির্দেশে সরকারি ৮টি সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ৩ মাস পর তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে নদীরক্ষা কমিশন। তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ হরিলুটের তথ্য।

মাইশা পাওয়ার প্ল্যান্ট ও আরিশা ইকোনমিক জোনের নাম দিয়ে দখলকৃত নদীর জায়গার মধ্যে প্রায় ১৩ একর জায়গা পুরোপুরি নদীর, প্রায় ৮ একর তীর ভূমি ও বন্দরসীমা এবং বাকি জায়গা ড্যাপের আওতাভুক্ত বন্যাপ্রবণ এলাকা। যেখানে কোন ধরনের স্থাপনা করার আইনি বৈধতাই নেই। যদিও আসলাম শুধু দখলই করেননি, পাওয়ার প্ল্যান্ট ও অন্যান্য স্থাপনা দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। নদী কমিশন জানায়, ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাপজোক করায় প্রতিবেদনে কোনও ভুল হওয়ার সুযোগ নেই।

নদীর মালিক বিআইডব্লিউটিএ জানায়, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শিগগির সেখানে স্থায়ী সীমানা পিলার বসানো হবে।

যৌথ জরিপে বলা হয়, অতিদ্রুত দখলদার নিজে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নদীর জায়গা ফিরিয়ে না দিলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সব গুঁড়িয়ে দিতে বলা হয়েছে। যার সব ব্যয়ভার বহন করতে হবে অবৈধ দখলদারকেই।


আরও পড়ুন