এক ঝাঁক তরুণ মাঠে কে হবে ফুলবাড়ীয়া বিএনপির অভিভাবক ?

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সারাদেশের মতই স্থবিরতা নেমে আসা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বিএনপির রাজনীতি ক্রমেই সরব হয়ে উঠছে। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ফুলবাড়িয়া উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি’র কমিটি ভেঙ্গে দেয় জেলা। এরপর থেকেই চলছে নতুন কমিটি গঠন ও নতুন নেতৃত্বে আসা নিয়ে নানামুখী তৎপরতা। দ্রুতই নতুন কমিটি হবে, আগামীদিনের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে? এ নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে চলছে আলোচনা।

আগামী দিনের নেতৃত্বে আসতে চাইছেন একাধিকনতুন, পুরাতন নেতা। তবে এখনো কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অনেক নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপি তথা হাইকমান্ডে ধরণা দিচ্ছে পদের জন্য। রাজনৈতিক স্থবিরতার মাঝে অনেক নেতা ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আলোচনা করছেন। করোনার মহামারির সময় গরিব ও হতদরিদ্রদের সাথে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে অনেক নেতা। বিএনপি’র দু:সময়ে মামলা মোকাদ্দমা পরিচালনা করেছে এবং বাড়িতে বাড়িতে ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন অনেক নেতা।

ফুলবাড়িয়া পৌরসভা ও উপজেলা বিএনপি’র নেতারা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিগত দিনে। তারা যেন কোন পদে আসতে না পারে সেদিকে জেলা বিএনপি’র নেতারা উপজেলার তৃণমূল নেতাদের অনুরোধ মাথায় রেখেছেন। দু-চারজন নেতা আছেন তাদের কাজ হলো নিরীহ বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া। তারা যদি বিএনপি’র নেতৃত্বে আসে তাহলে ফুলবাড়িয়া বিএনপি ধ্বংসের দিকে চলে যাবে বলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগীকর্মীদের অভিমত।

সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শামছ উদ্দিন আহমেদ এর মৃত্যুর পর নেতৃত্বে দেওয়ার মতো নেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যদি ভালো নেতা নেতৃত্বে আসতেন তা হলে পাল্টে যাবে বিএনপি’র সাংগঠনিক ধরন। দলের সিনিয়র নেতা ও মধ্যমসারির নেতারা জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। অসাধু বিএনপি’র নেতারা চুপ হয়ে গেছে। কারণ তাদের ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতারা পছন্দ করে না। বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় থাকা অবস্থায় ফুলবাড়িয়ার ৫/৬ জন নেতা ছাড়া রাজপথে পদপ্রাপ্তরা ছিল না। এখন মানুষের মাঝে বলে বেড়ায় আমি রাজ পথে ছিলাম। রাজপথে কে ছিল কে বাড়ীতে ছিল এটা সবাই জানে। নেতৃ স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীরা জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল।

ফুলবাড়িয়া বিএনপি’র নেতারা তারেক রহমানের স্কাইপি ঐ বৈঠকে যোগ দিতে চেষ্টা করছে। স্থানীয় ত্যাগী নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ২০০৭ সালে ১/১১ এর সময় একটি মহল বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য দল ত্যাগ করে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পাটিতে যোগ দিয়েছিল। একএগার’র সুযোগ সন্ধানী সেই নেতা এখন ফুলবাড়িয়া বিএনপি’র নেতৃত্বে আসতে চাচ্ছেন। ফুলবাড়িয়া তৃণমুল বিএনপি’র নেতারা ঐসব নেতাদের পেছনে নেই। আগামীতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া বিএনপি’র নেতৃত্বে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বর্তমান জেলা বিএনপি’র সদস্য এড. আজিজুর রহমান, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেধাবী ছাত্র নেতা মোহাম্মদ আব্দুল করিম সরকার, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি নেতা, জেলা বিএনপি’র সদস্য ও সাবেক এমপি মরহুম ইঞ্জি. শামছ উদ্দিন আহমদ এর ভাতিজা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: মামুনুর রশিদ মামুন, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা বিএনপি’র সদস্য আশিকুল হক আশিক, এক সময়ের মাঠ কাঁপানো ছাত্র নেতা, নাসিরবাদ কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস, জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা জিয়া পরিষদের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কবি জসিম উদ্দিন হলের সাবেক দুইবারের সিনিয়র সহ-সভাপতি, এক সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কেন্টিন থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস যার ধ্বনিতে মুখরতি হয়েছিল সেই নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মেধাবীছাত্র নেতা মো: জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. মিজানুর রহমান পলাশ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্র নেতা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বাদশা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপি’র সদস্য ছাইফুল ইসলাম বাদল, বিশিষ্ট শিল্পপতি মরহুম আলহাজ¦ নুরুন নবী ফকিরের সহধর্মিনী সাবেক ছাত্রনেত্রী আরিফা নূর, জেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক আকতারুল আলম ফারুক (পিডিপি ফারুক)।

এ দিকে পৌর বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক হতেও মাঠে কাজ করছেন একঝাক সম্ভাবনাময়ী নেতা। এদের মধ্যে পৌর বিএনিপর সাবেক আহবায়ক, ফুলবাড়িয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস কবির হোসেন, পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি একেএম শমসের আলী, পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহেল মোস্তাক, দুই দুইবারের পৌর কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক আবুল ফজল, ফুলবাড়িয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান আনিছ, বর্তমান পৌর কাউন্সিলর শাহজাহান সিকদার প্রমুখ। তবে এবার কমিটিতে কর্মীবান্ধব, সাহসী এবং দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ নেতাদের নেতৃত্বের আসনে দেখতে চান দলের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। সে জন্য তারা দলের উর্ধ্বতন নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মাংস বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, আমি গরিব মানুষ, মাংস বিক্রি করে দিনপাত চলে। আমার বিরুদ্ধে ২টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে সরকার। আমি চাই বিএনপিতে যেন ত্যাগি নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়। জেলা যুবদলের সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক এস এম শের মাহমুদ বলেন, প্রায় ২৫ বছর যাবত বিএনপি’র অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের সাথে জড়িত। অনেক নির্যাতিত হয়েছি। ১/১১ এর সময় যারা পিডিপি’র দল করেছে তাদের কে দিয়ে যেন কমিটি না হয়।


আরও পড়ুন