আইসক্রিমের ইতিহাস

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৪, ২০২৩, ০৬:৩৫ বিকাল
আপডেট: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ১২:১৭ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

জানা যায় যে উপমহাদেশে ষোলো শতকে মোগল প্রভাবেই প্রথমে কুলফির প্রচলন হয়। উনিশ শতকের প্রথম দিকে ভারতীয় উপমহাদেশে বরফকল প্রতিষ্ঠার পর আমাদের দেশে ত্রিশ-চল্লিশের দশক থেকে বড় মাটির মটকায় লবণ-বরফে চুবানো কুলফি পাওয়া যায় দেদারসে। আজকাল আর আধুনিক আইসক্রিমের দৌরাত্ম্যে মালাইয়ে ভরপুর মটকা কুলফির দেখা মেলা ভার।

একেবারে মসৃণ, ক্রিমি ও মুখে মিলিয়ে যাওয়া আইসক্রিম বানানোর জন্য হস্তচালিত আইসক্রিম ফ্রিজার প্রথম বানিয়েছিলেন ন্যান্সি জনসন (২৮ ডিসেম্বর, ১৭৯৪– ২২ এপ্রিল, ১৮৯০) নামের এক মার্কিন নারী, ১৮৪৩ সালে। এটি তিনি নিজের নামে পেটেন্ট করেন আমেরিকায়। এ যন্ত্রে সহজে আইসক্রিম বানানো যেত। এরপর উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকভাবে আইসক্রিম উৎপাদন ও বিপণন শুরু হয়ে যায়। 

আইসক্রিমের ব্যাকরণ অনুযায়ী, অন্তত ১০ শতাংশ দুগ্ধজাত চর্বি বা মিল্কফ্যাট থাকলেই কেবল তাকে আইসক্রিম বলা যাবে। এই মিল্ক ফ্যাট, ডিম, দুধ, বিভিন্ন ফ্লেভারের জন্য মনমতো উপকরণ আর চিনি মিশিয়ে ক্রমাগত ঘুরিয়ে ফেটিয়ে জমিয়ে তৈরি করা হয় আইসক্রিম। এই প্রক্রিয়া চার্নিং নামে পরিচিত। এর ফলে বরফের দানা বা স্ফটিকগুলো বড় হয়ে জমতে পারে না। আর এই সূক্ষ্ম স্ফটিকগুলো মিল্কফ্যাট আর দুধের পানির মসৃণ ফেটানো মিশ্রণ বা ইমালশনের মধ্যে ডুবে থাকে।

অন্তত ১০ শতাংশ দুগ্ধজাত চর্বি বা মিল্কফ্যাট থাকলেই কেবল তাকে আইসক্রিম বলা যাবে
পুরো বিশ্বে অসংখ্য ফ্লেভারের আইসক্রিম খেয়ে থাকে বিশ্ববাসী। বিভিন্ন উপাদেয় ফল, দুধ, বাদাম ইত্যাদি ছাড়াও অদ্ভুত অদ্ভুত আইসক্রিম পাওয়া যায় বিভিন্ন দেশে। যেমন ঝাঁজালো ওয়াসাবি আইসক্রিম, চারকোল দেওয়া মিশকালো আইসক্রিম, উৎকট গন্ধের ডুরিয়ান আইসক্রিম, নোনতা স্বাদের চিজ আইসক্রিম ইত্যাদি।কাঠি আইসক্রিমের জন্ম হয়েছিল একেবারেই আচমকা। তা-ও আবার ১১ বছরের এক খুদের হাত ধরে।

দুপুরবেলা বাড়ির খোলা বারান্দায় বসে শরবতে চুমুক দিতে দিতে কখন যেন নিজের ঘরে ঢুকে পড়েছিল ওই খুদে। বারান্দায় রয়ে গিয়েছিল সেই শরবতের গ্লাসটি। তাতে কিছুটা চিনি মেশানো সোডা-শরবত আর একটি কাঠি পড়েছিল। ওই কাঠি দিয়েই মাঝেমধ্যে শরবত নাড়িয়ে নাড়িয়ে চুমুক দিচ্ছিল সে। গ্লাসের কথা বেমালুম ভুলে যাওয়ায় রাতভর ঠান্ডায় তা পড়েছিল ওই বারান্দায়। পরের দিন সকালে উঠে খুদের নজরে পড়ে, গ্লাসের শরবত জমে বরফ! তার মাঝে কাঠিটি খাঁড়া হয়ে রয়েছে। কাঠিতে সাঁটা সেই বরফগোলা চেখে মনে হয়েছিল— দারুণ স্বাদু তো!

প্রায় ১১৭ বছর আগে এভাবেই হঠাৎ কাঠি আইসক্রিম তৈরি করে ফেলেছিলেন আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকায় বাসিন্দা ফ্রান্সিস উইলিয়াম এপারসন। পরিচিতরা অনেকেই যাকে ফ্র্যাঙ্ক নামে ডাকতেন।

কাঠিতে সাঁটা ওই বরফের গোলা তৈরির কথা বন্ধুবান্ধবদের কাছে বলেছিলেন এপারসন। তারাও চেখে তারিফ করেছিল। এর পর পাড়ায় ও তার আশপাশে ওই কাঠি আইসক্রিম বিক্রি করতে শুরু করেন।

কাঠিটিকে হাতলের মতো ধরে তাতে সাঁটা বরফ চেটে খাওয়ার কথাও এপারসন জানান ক্রেতাদের। ওই বরফগোলার একটি গালভরা নামও রাখেন- এপসিকল। নিজের পদবির সাথে ‘আইসিকল’ শব্দটি মিশিয়ে তৈরি নাম।

বাড়ির আশপাশে কাঠি আইসক্রিম বিক্রি করেই দু’পয়সা রোজগার করছিলেন এপারসন। ওই ‘আবিষ্কার’-এর ১৮ বছর পর নিজের এলাকার বাইরে তা বিক্রির কথা চিন্তাভাবনা শুরু করেন। সেটি ১৯২৩ সাল। জমাট বাঁধা বরফের গোলা বিক্রির জন্য বেছে নেন ক্যালিফোর্নিয়ারই নেপচুন বিচ নামে একটি বিনোদনমূলক পার্ক এলাকা। ওই পার্কে কচিকাঁচাদের কাছে এপসিকল তখন সুপারহিট!

আমাদের দেশে ইগলু আর পোলার কোম্পানির হাত ধরে এই প্রথাগত আইসক্রিম অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এখন তো হাডজেন ডাস বা মুভ এন পিকের মতো বিশ্বখ্যাত সব ব্র্যান্ডের আইসক্রিমও পাওয়া যায় এ দেশে। আবার এই ভ্যানিলা আইসক্রিমের ওপরে মচমচে চকলেটের পাতলা আবরণ দেওয়া চক আইস বা চকবার সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও তুমুল জনপ্রিয়। আবার পাতলা ওয়েফার বিস্কুট দিয়ে বানানো কোনে স্কুপ ভরে দেওয়া কোন আইসক্রিমতো আরেক মাত্রা এনে দিয়েছে আইসক্রিমের দুনিয়ায়।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়