পোশাকে শারদীয় আয়োজন

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ০৯:০০ রাত
আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ০৯:০০ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক: মন্দিরে মন্দিরে পড়ছে উলুধ্বনি আর ঢাকে নাচছে কাঠি। এমন সময় মনকে বেঁধে রাখা যায় না। পরিপাটি সাজপোশাকে মাকে অঞ্জলি দানেই আসবে পরিতৃপ্তি। যেহেতু দুর্গাপূজার আয়োজন কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ দিন হয়ে থাকে। অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশমী। তাই পোশাক নির্বাচনে মাথায় রাখা হয় পূজার আবহ, সকাল-রাতের পার্থক্যসহ বিভিন্ন বিষয়।

পোশাকে শারদীয় নকশা
শরতের প্রকৃতিতে কখনও দেখা যায় মেঘের খেলা আবার কখনও রোদের হাসি। গরমও একেবারে কম নয়। তাই শারদীয় পোশাকে এবারও প্রাধান্য পেয়েছে আরমদায়ক সুতি ও ভয়েল। আরও আছে সিল্ক, হাফ সিল্ক, রেয়ন, শিফন ও লিনেন ইত্যাদি। ষষ্ঠ থেকে দশমীতে যারা একেক দিন একেক ধরনের পোশাক পরতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও আছে টিউনিক, শর্ট টপস, লং টপস, লেয়ার টপস, স্কার্ট, লেডিস শার্ট, পালাজ্জো, হারেম, পাঞ্জাবি, পোলো ও প্রিন্টেড টি-শার্টসহ নানা ধরনের পোশাক। প্রতি বছরের মতো এবারও পূজা ও প্রকৃতিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন থিম নিয়ে কাজ করছে ফ্যাশন হাউসগুলো। ফ্লোরাল মোটিফ, মিরর ওয়ার্ক, হ্যান্ড পেইন্ট, ব্রাশ পেইন্ট ও হালকা সুতার কাজ ইত্যাদি ভ্যালু অ্যাড ব্যবহার হয়েছে শারদীয় পোশাকের নকশায়। রঙের ক্ষেত্রে লাল-সাদা, নীলের পাশাপাশি প্রকৃতির নানা রং উঠে এসেছে পূজার শারদীয় পোশাকে।

মেয়েদের ট্রেন্ডি পোশাক
মেয়েদের শর্ট, লং ও লেয়ার টপস এবং টিউনিক এখন বেশ জনপ্রিয়। অধিকাংশই সুতি, জর্জেট ও লিনেনের ওপর তৈরি হয়েছে এ পোশাকগুলো। ট্রেন্ডি ধাঁচের পোশাকের সঙ্গে ফিটিংস লং কোটিও চোখে পড়বে। ফ্রক স্টাইলে ঢিলেঢালা টপস এখন নারীদের স্মার্ট ক্যাজুয়াল পোশাক।

যেহেতু ষষ্ঠ থেকে দশমী পর্যন্ত একেকদিন একেক আমেজ বিরাজ করে। তাই পূজার ধরনের বা আমেজের সঙ্গে মিলিয়ে দিন গুনে পোশাক পরতে পারেন। এতে লুকে যেমন ভিন্নতা আসবে, তেমনি পুজোর আবহেও মিলে যাবে। 
পূজার প্রথম দিন ধরা হয় ষষ্ঠীতে। এদিন দেবীর বোধনে পূজা শুরু হয়। তবে দুর্গাপূজা পুরোপুরি জমে ওঠে সপ্তমী থেকে। ষষ্ঠীতে মেয়েরা শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজ যে কোনোটিই পরতে পারেন। তবে এদিন বাসায় অতিথির ভিড় থাকলে তাঁতের কিংবা প্রিন্টের সুতি শাড়ি কিংবা হালকা কাজের সালোয়ার-কামিজ আরামদায়ক হবে। 

সপ্তমীতে মন্দিরে বা অঞ্জলি দিতে যাওয়ার সময় বা রাতে বাড়ির পুজো প্রাঙ্গণে আড্ডায় একটু হালকা ধাঁচের শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ পরুন। রাতে জমকালো পোশাকের তালিকায় রাখতে পারেন চওড়া পাড়ের একরঙা কিংবা হালকা নকশার কাতান শাড়ি। সঙ্গে সোনা, রুপা বা ইমিটেশনের হালকা গহনা। 

অষ্টমীতে থাকে কুমারী পুজো। এদিন সকালে লাল শাড়ি পরার প্রচলন আছে। সাজেও থাকে লালের আধিক্য। তসর, সিল্ক ও কাতান সাদার মধ্যে লাল পাড়ের এক প্যাঁচে শাড়ির সঙ্গে হাতভর্তি চুড়ি, আলতা ও লিপস্টিকে পুরোপুরি বাঙালি সাজে সাজতে পারেন এদিন। দিনের অন্যভাগে কুর্তি ও টপসসহ চাইলে ওয়েস্টার্ন লুকেও সাজা যায়। 

নবমীতে হয় সান্ধ্য পূজা। এদিন সবাই সন্ধ্যার পরই মন্দিরে যায়। তাই নবমীর সাজপোশাক হয় জমকালো। নবমীতে বেনারসি, কাতান, ভারী কাজের সুতি, জামদানি, কোটা ও শাড়ির সঙ্গে ভারী গহনা মানাবে। যারা সিল্ক ও মসলিন ধরনের শাড়ি পরবেন তারা একটু হালকা ধরনের গহনা বেছে নিন।

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রধান আকর্ষণ দশমী। দশমীতে সনাতন ভাবধারা বিরাজ করে। দশমীতেই দুর্গা মায়ের বিসর্জন হয়। বিসর্জনের পর শুরু হয় বিজয়া। এদিন সিঁদুর খেলা হয় তাই পোশাকে থাকে লালের ছটা। সেখানে লাল পেড়ে সাদা গরদ, একদম লাল রঙা শাড়ি বা সাদা জামদানি সবচেয়ে মানানসই। শাড়িটা জরি পাড়ের হলে আরও জমকালো দেখাবে। সঙ্গে নকশা করা লাল ব্লাউজ। শুধু শাড়ি নয়, লাল-সাদার মিশেলে লেহেঙ্গা, আনারকলি বা কুর্তি স্টাইলের ড্রেসেও মন্দ লাগবে না।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়