এসি ছাড়া কীভাবে ঘর ঠাণ্ডা রাখা যায়

প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২২, ০৩:৪৫ দুপুর
আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০২২, ০৩:৪৫ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক: লোডশেডিংয়ের কারণে এসি সবসময় চালানো যাচ্ছে না। আর যাদের এসি নাই তাদের কথা না হয় বাদই গেল। তবুও ঘর তো ঠাণ্ডা রাখা চাই। কিছু কৌশল জানা থাকলে এই গরমেও ঘর ঠাণ্ডা রাখা যায়।

গরমের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেটে গিয়ে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করা যায়। কিংবা অফিসে এসি থাকলে সারাটা দিন থাকা যায়। তবে রাতে ফিরে তো গরম।

তাই ঠাণ্ডা রাখার আগে জানতে হবে কেনো ঘর গরম হয়।

কথায় বলে, ‘প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ ভালো’। ঘর ঠাণ্ডা রাখার ক্ষেত্রেও এই বচন কার্যকর। ঠাণ্ডা রাখতে ঘর যতটা সম্ভব কম গরম হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাছাড়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রের খরচ বাঁচাতেও ঘর ঠাণ্ডা রাখার কৌশলগুলো কার্যকর।

সূর্যের তাপ: ঘর গরম হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে সূর্যালোক।

আদর্শ জানালায় আসা সূর্যালোকের তিন চতুর্থাংশের বেশি তাপ ঘরে প্রবেশ করে এবং জানালা ঢেকে রাখা তা কিছুটা কমাতে সহায়তা করে। প্লাস্টিকের ব্যাকিংসহ মাঝারি রংয়ের ‘ড্রেইপ’ বা পাতলা পর্দা ৩৩ শতাংশ তাপ কমায় এবং ঘরে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত তাপ কমাতে সহায়তা করে।

চুলা বন্ধ রাখা: চুলার গরম ঘরকে আরও উষ্ণ করে তোলে। তাই কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত চুলা বন্ধ করে দেওয়া ভালো। এতে ঘর বাড়তি গরম হবে না।

অপ্রয়োজনীয় যন্ত্র বন্ধ রাখা: ডিসওয়াশার, ওয়াশিং মেশিং, ড্রায়ার এমনকি মোবাইল চার্জার ইত্যাদি ছোটখাট যন্ত্রও ঘরের তাপ মাত্রা বাড়ায়। তাই এসকল যন্ত্র ব্যবহার হয়ে গেলে তা বন্ধ করে রাখা উচিত।

চুল শুকাতে ব্যবহৃত ড্রায়ারও ঘরের তাপমাত্রা বাড়ায়। তাই চুল বাতাসের শুকানোই ভালো।

ছাউনি ব্যবহার: ঘরের আশপাশে গাছপালা থাকা ঘরে সরাসরি সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারে না। ফলে ঘর ঠাণ্ডা থাকে। জানালায় ছাউনি থাকলে প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত তাপ কমাতে সহায়ক হয়।

অব্যবহৃত ঘরের দরজা বন্ধ রাখা: বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে না এমন কোনো ঘর বন্ধ করে রাখা উচিত। এতে ঘরের জায়গার আয়তন কমবে এবং ঘর ঠাণ্ডা থাকবে। 

দরজা এবং জানালার চারপাশে ফাঁকা বন্ধ করা: দরজা বা জানালায় কোনো রকম ফাঁকা থাকলে তা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এতে শীতে ঘর গরম থাকবে এবং গরম কালে ঘর ঠাণ্ডা থাকবে।

ছাউনি ব্যবহার: ঘরের আশপাশে গাছপালা থাকা ঘরে সরাসরি সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারে না। ফলে ঘর ঠাণ্ডা থাকে। জানালায় ছাউনি থাকলে প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত তাপ কমাতে সহায়ক হয়।

অব্যবহৃত ঘরের দরজা বন্ধ রাখা: বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে না এমন কোনো ঘর বন্ধ করে রাখা উচিত। এতে ঘরের জায়গার আয়তন কমবে এবং ঘর ঠাণ্ডা থাকবে।

দরজা এবং জানালার চারপাশে ফাঁকা বন্ধ করা: দরজা বা জানালায় কোনো রকম ফাঁকা থাকলে তা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এতে শীতে ঘর গরম থাকবে এবং গরম কালে ঘর ঠাণ্ডা থাকবে।

ছোটখাটো এই পরিবর্তনগুলো ঘরে অনেক বড় পরিবর্তন আনে।

এয়ার কন্ডিশনার ছাড়া ঘর ঠাণ্ডা করার উপায়: রোদের তাপ, বায়ুর সঠিক চলাচলের অভাব ইত্যাদি নানান কারণে ঘর গরম হয়ে যেতে পারে। ঘর ঠাণ্ডা রাখতে এয়ার কন্ডিশনার একমাত্র সমাধান নয়, এছাড়াও রয়েছে নানান সহজ কৌশল।

তাপমাত্রা কমে গেলে জানালা খোলা: দিনের বেলায় জানালার পর্দা টেনে রাখুন। এই সময় বাতাস সবচেয়ে বেশি গরম থাকে। কিন্তু যখন বাইরের তাপমাত্রা ভেতরের বাতাসের চেয়ে কম থাকে তখন জানালার পর্দা সরিয়ে দিলে ঘরে ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত হয় ও ঠাণ্ডা হয়ে আসে। ঘরে ঠাণ্ডা বাতাস  বয়ে যাওয়ার জন্য রাখা একটি ফ্যান দ্রুত শীতল হতে সাহায্য করবে এবং বাড়ির বিপরীত দিকের জানালা খোলার ফলে আড়াআড়ি বায়ু প্রবাহ তৈরি হবে যা ঘরকে দ্রুত ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি ল্যাবরেটরি (এনআরডিসি)’র তথ্যানুসারে, বাতাস আসার জন্য ছোট জানালা এবং গরম বাতাস বের করে দেওয়ার জন্য বড় জানালা ব্যবহার করা উচিত, এতে ঘর দ্রুত ঠাণ্ডা হয়।

গরম বাতাস বের করে দেওয়া: ‘এডজাস্ট ফ্যান’ ঘরের গরম বাতাস বের করে দেয়। বাথরুম বা রান্না ঘরে এটা ব্যবহারে গরম ভাব কমায়। রাতে জানালা খোলা রাখার পাশাপাশি এডজাস্ট ফ্যান চালিয়ে রাখা ঘর ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে।

আর্দ্র বাতাস: ঘর ঠাণ্ডা রাখতে ফ্যানের পেছনে ভেজা কাপড়, ঠাণ্ডা বস্তু, এক বাটি বরফ বা ঠাণ্ডা পানির বোতল রাখলে ঠাণ্ডা বাতাস ছড়ায়, ফলে ঘর ঠান্ডা থাকে। এক্ষেত্রে টেবিল ফ্যান ব্যবহার করতে হবে।

সিলিং ফ্যান: ঘরের তাপমাত্রা কমানোর ভালো উপায় হল সিলিং ফ্যান ব্যবহার। এটা ঘরের তাপমাত্রা দশ ডিগ্রি কমাতে পারে ও এয়ারকন্ডিশনারের চেয়ে ১০ শতাংশ শক্তি কম অপচয় হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়