অফিসে ঝিমুনি বা ঘুম এলে কী করবেন...

প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২২, ১২:০৮ দুপুর
আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০২২, ১২:০৮ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক: আহনাফ প্রায় ৫ বছর থেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস। চাকরি জীবনের প্রথম দিকে কাজে তেমন সমস্যা না হলেও বেশ কিছুদিন থেকে দুপুরের পর ঘুমে তার চোখ ধরে আসে। তাই মাঝে মাঝেই নিজের ডেস্কে মাথা রেখে কিছুটা বিশ্রামের মত নেন। তামান্না একটি লিজিং কোম্পানীতে কাজ  করেন। দিনের প্রথম অংশে কাজে পরিপূর্ণ এনার্জি থাকলেও দ্বিতীয় ভাগে ঝিমুনির মত আসে। মাঝে মাঝে ভাবেন, নিজের ডেস্কে কিছুক্ষণ মাথা রেখে একটু ঝিমিয়ে নেবেন। কিন্তু কে কী ভাববেন এই শঙ্কা ও লজ্জায় তিনি করতে পারে না। তাই ঝিমুনি এলেই ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে-মুখে বেশি করে পানির ছিটা দিয়ে আসেন।

আহনাফ বা তামান্নার মত অনেকেরই অফিসে কাজের ফাঁকে ঝিমুনি বা ঘুম আসে। ঘুমের কারণে কোন কাজেই মনোযোগ দিতে পারেন না। এ রকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।

আমাদের দেশে কর্মক্ষেত্রে ঘুমিয়ে নেওয়ার কোন সুযোগ বা সুবিধা না থাকলেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মক্ষেত্রে একটু ঘুমিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক ভাবেন। দক্ষিণ ইউরোপে দুপুরের ঘুম স্বীকৃত। চীনে মধ্যাহ্নভোজের পর কর্মক্ষেত্রের ডেস্ক, পার্কের বেঞ্চ, রেস্তোরাঁ বা ঘাসের ওপর লোকজনকে ঘুমোতে দেখা যায়। জাপানে অফিসে ঘুমে ঢুলুঢুলু করাকে ভালো চোখেই দেখা হয়। এর মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার কঠোর পরিশ্রমের ইঙ্গিত দেন। 
অফিসে ঘুমের সমস্যার সমাধানে যা করতে হবে:

৮ ঘণ্টা:  প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। রাতে ঘুম কম হলে তার প্রভাব আমাদের কর্মক্ষেত্রেও পড়ে। আর সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে কাজ করতে কষ্ট হয়। এজন্য ঘুমের নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যেতে হবে এবং একই সময়ে ওঠার অভ্যাস করতে হবে।

ব্যায়াম: শরীর দুর্বল হলে অফিসে ঘুম পেতে পারে। সুস্থ থাকতে নিয়মিত ৩০-৪০ মিনিট ব্যায়াম করুন। অন্য কিছু করতে না চাইলে শুধু হাঁটুন।

বন্ধুত্ব: সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করুন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে সিট ছেড়ে উঠে গিয়ে সহকর্মীদের খোঁজ নিন। কিছুক্ষণ আড্ডা দিন। ঝিমুনি এসে কাজের ক্ষতি করার সুযোগ পাবে না।

পানির ঝাপটা: ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে চোখে-মুখে পানির ঝাপটা দিন। বেশ কিছুক্ষণের জন্য ঘুম পালাবে।

চা-কফি: অফিসে এক কাপ গরম চা বা এক মগ কফি টনিকের কাজ করে। চা-কফি পানে ঘুম তো তাড়াবেই। সেই সঙ্গে আমাদের কাজ করার জন্য করে তোলে আরও চাঙ্গা।

শুকনো খেজুর: মরুভূমি অঞ্চলের মানুষ শুকনো খেজুর খেয়ে উত্তপ্ত পথে চলার শক্তি পায়। আমরাও এই খেজুর খেয়ে শরীরে দীর্ঘ সময় কাজ করার শক্তি পেতে পারি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়