বিদ্যুৎ আর গ্যাসের খরচ কিছুটা কমাতে অবশ্যই হিসেবি ও সচেতন হতে হবে...

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ১০:১২ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১

লাইফস্টাইল ডেস্ক: এখন অনেক বাড়িতেই চলে এসেছে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার। এই মিটারের যতটুকুন বিদ্যুৎ খরচ করবেন ঠিক ততটুকুনই বিল উঠবে। অনেক বাড়িতে অবশ্য এখনও আগের সিস্টেমে বিদ্যুতের মিটার রয়েছে। এসব মিটারে আবার কোন সময় বেশি বিল কখনও কম বিল আসে। তবে অধিকাংশ গ্রাহকেরই অভিযোগ এসব মিটারে বেশি বিল ওঠে। অপরদিকে কোভিড-১৯’র জন্য দেওয়া লকডাউন উঠে গেলেও এখনও অনেক অফিস, মিটিং ও সেমিনার অনলাইনেই চলছে। কখনও সখনও বাড়িতে বসেই এসব কাজ করতে  হয়। ফলে একই সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের খরচ। তাই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল কীভাবে কমানো যায় আজ রইল সেই টিপস।
অফিসে থাকাকালীন যতবার চা-টা খেতেন, বাড়িতেও যদি সেই ট্র্যাডিশনই বজায় থাকে, তা হলে গ্যাস পুড়ছে বেশি। সেই সঙ্গে নিত্য নতুন রান্না তো আছেই। সমস্যা হচ্ছে, ইচ্ছে থাক বা না থাক, আমাদের সবাইকেই খরচ কমানোর অভ্যেস তৈরি করতে হবে খুব সচেতনভাবেই। চাকরির বাজারের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে, তাই আগামী কঠিন সময়ের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করা উচিত একথা ঠিক।
গ্যাস বাঁচানোর ক্ষেত্রে আপনার সবচেয়ে বড়ো বন্ধু হতে পারে প্রেশার কুকার। যে কোনও রান্না ভালো করে কষে প্রেশার কুকারে সেদ্ধ করে নিন। লাউ, পেঁপে, বাঁধাকপির মতো সবজি সেদ্ধ হতে সময় লাগে বেশি। সামান্য নুন, চিনি দিয়ে তা প্রেশার কুকারে ভাপিয়ে নিয়ে রান্না করুন। চাল বা ডাল রান্নার আগে বেশ অনেকক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। রান্নার আগে পানি ফেলে দেবেন। প্রেশারে দিয়ে সেদ্ধ করা যায় দুটোই। তাতে গ্যাস বাঁচে। যদি প্রেশারে রান্না করা ভাত সহ্য না হলে একটা কাজ করুন। টগবগে গরম জলে চাল ছাড়ুন, ভাত দু’বার ফুটে গেলে গ্যাস বন্ধ করে দিন। আধ ঘণ্টা পর দেখুন, চাল অনেকটা নরম হয়ে যাবে। তখন আর একবার ফুটিয়ে নিলেই হবে।
বার বার চা করতে হয়? তা হলে চায়ের পানি ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে ফ্লাস্কে ভরে রেখে দিন। চা বানানোর আগে আর একবার গরম করে নিলেই হবে! বাসন ধুয়ে শুকনো করে গ্যাসে বসান। না হলে বাসনের পানি শুকোতেও এনার্জি পোড়ে। রান্নায় একগাদা পানি দেবেন না, আর রান্না বসানোর আগে হাতের কাছে সব জোগাড় রাখুন। রাঁধতে বসে কড়া জ্বলে যাচ্ছে, অথচ মশলা বাটা বা সবজি কাটা নেই -- এরকম যেন না হয়। কম আঁচে ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। তাতে গ্যাস বাঁচে, রান্নায় পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।
যখন যে গ্যাজেট ব্যবহার হচ্ছে না, তখন সেটি পুরোপুরি সুইচ অফ করে রাখুন। ইলেকট্রিসিটি বাঁচানোর সবচেয়ে সহজ উপায় সেটাই। রিমোট সুইচ দিয়ে টিভি বা এসি অফ করলেও কিন্তু বিদ্যুৎ পোড়ে। গোটা ঘরে চড়া আলো না লাগিয়ে টেবল ল্যাম্পের ব্যবহার বাড়ান। ল্যাপটপ বা রিডিং টেবলের সামনে ভালো সিএফএল বালব দেওয়া ল্যাম্প লাগিয়ে নিন। এছাড়া অকারণে কোন ঘরে বাতি জ্বালাবেন না। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দেখুন সব ঘরের সুইচ বন্ধ করা আছে কী না। এভাবে একটু সচেতন হলেই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপচয় অনেকটা কমে যায়।