বাবা-মা যখন কর্মজীবী তখন সন্তানে যত্ন নেবেন কীভাবে...

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ০৯:৩২ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১

লাইফস্টাইল ডেস্ক: রিশা-সায়েম দু’জনেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সারাদিন দু’জন ব্যস্ত থাকেন। এ কারণে তাদের ৪ বছরের সন্তান রিম্পাকে দেখাশোনার জন্য রিশার দুর সম্পর্কের এক খালাকে রেখেছেন। ওই খালায় রিম্পার দেখাশোনা করেন। সারাদিন পর রিশা বাড়ি এলে মেয়েকে যখন কাছে নেন তখন তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। রিম্পা মা'কে তেমন পছন্দ করছে না, এমন কী বাবাকেও না। ঠিকমত খেতে চায় না, খেলা -পড়া কোন কিছুতেই যেন মেয়েটির আগ্রহ নেই।
সময় বদলেছে। আজকাল পুরুষের পাশাপাশি বাড়ছে নারীদেরও কর্মসংস্থান। তাই অনেক পরিবারেই দেখা যায় মা-বাবা উভয়েই কর্মজীবী। অফিসের কাজের চাপ বা নানা ব্যস্ততায় সন্তানকে সময় দেওয়াটা তাই ভীষণই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এতে করে শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা পড়ে যায়। মানসিক অবসাদ থেকে শুরু করে নানা রকম মানসিক অসুস্থতায় ভুগতে পারে শিশু। তাই অফিসের কাজের ফাঁকেও সন্তানকে দিতে হবে সময়। সন্তানের প্রতি এই দায়িত্ব কেবল মায়েরই নয়, বাবা-মা উভয়েরই। চেষ্টা করুন অফিসের পাশাপাশি বাবা মা উভয়েই সন্তানকে কোয়ালিটি টাইম দিতে।
বাসা অফিসের কাছে হলে আপনার অনেক দুশ্চিন্তা দূর হবে। যদি সম্ভব হয় তবে অফিসের কাছে বাসা নিতে পারেন। এতে দূর থেকে অফিস যাওয়া ও আসার পেছনে যে সময় ব্যয় হয় তা সন্তানকে দিতে পারবেন। অফিসের কাছে বাসা হলে আরো অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন অফিস থেকে বাসায় ফিরে সন্তানদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে পারবেন। এমনকি জরুরি কোন দরকার হলে কম সময়েই বাসায় এসে সন্তানের ভালো-মন্দ দেখভাল করে অফিসে ফেরা যায়। বাসা অফিসের কাছে হলে আপনার যেমন অনেক দুশ্চিন্তা দূর হবে, তেমনি সন্তানও নিজেকে নিরাপদ মনে করবে যে আপনি কাছাকাছি আছেন। এ ছাড়া আপনার অফিসের কাছাকাছি কোন ডে কেয়ার সেন্টার রয়েছে কি না খোঁজ নিন। থাকলে সেখানে সন্তানকে ভর্তি করে দিতে পারেন। এতে সন্তানকে দেখভাল করা সহজ হবে। অফিস কালীন খানিকটা অবসর খুঁজে বের করুন
কর্মজীবীদের সপ্তাহের ছয় দিন ৯-৫ টা অফিস করতেই হয়। কেউ কেউ হয়তো সপ্তাহে দুই দিন ছুটি পান। এটাও সন্তানদের জন্য যথেষ্ট   নয়। এ জন্য অফিস কালীন খানিকটা অবসর খুঁজে বের করুন। হতে পারে লাঞ্চের পর ১০ মিনিট। কিংবা আপনার কোন সুবিধাজনক সময়। এই সময়ে সন্তানকে ভিডিও কলে যুক্ত করে দুজন গল্প করুন। বাসায় সে কি করছে জানতে চান। তার কোন অসুবিধা হলে তাও জিজ্ঞেস করুন। সন্তানকে জানান তাকে আপনিও মিস করছেন। এতে সন্তান নিজেকে আপনার কাছে মূল্যবান মনে করবে। দুজনই মধ্যবিরতির সময়টা উপভোগ করবেন।
পড়াশোনার ফাঁকে আপনার প্রাত্যহিক কাজেও সাহায্য করতে বলুন: চেষ্টা করুন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে। এতে কিছুটা বেশি সময় পাবেন সন্তানকে দেওয়ার জন্য। বিষয়টা কর্মজীবী মা-বাবার জন্য কিছুটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। সন্তানকেও আগে আগে জাগিয়ে দিন। ওকে পড়াশোনার ফাঁকে আপনার প্রাত্যহিক কাজেও সাহায্য করতে বলুন। পরিবারের সবার সকাল সকাল জাগার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেলে এটা আর কঠিন কিছু মনে হবে না।
যদি একটু আগে বাসায় ফিরতে পারেন তাহলে ওকে নিয়েই হাঁটতে বের হন: অফিস থেকে ফিরে বিকেলে বা রাতেও কিছুটা সময় সন্তানকে নিয়ে কাটাতে পারেন। যদি একটু আগে বাসায় ফিরতে পারেন তাহলে ওকে নিয়েই হাঁটতে বের হন। আপনার ওয়ার্ক আউটের সময় ওকে সাইকেল চালাতে উৎসাহ দিন। রাতে খাবার টেবিলে সবাই একসঙ্গে খেতে বসুন। গল্প করুন। ছোট ছোট এসব অভ্যাসের মাধ্যমেই সন্তানকে কোয়ালিটি টাইম দেওয়া যায়।
আপনি যদি কর্মজীবী মা-বাবা হয়ে থাকেন তাহলে ছুটির দিনটা সন্তানকে দেওয়াই সবচেয়ে বেশি জরুরি।
ছুটির দিনে সারা সপ্তাহের জন্য কত পরিকল্পনাই তো জমে থাকে। এসব পরিকল্পনার মধ্যে সন্তানের কথা ভুলে যাবেন না। বরং সন্তানকে প্রাধান্য দিয়ে অন্য সব পরিকল্পনা সাজান। আপনি যদি কর্মজীবী মা-বাবা হয়ে থাকেন তাহলে ছুটির দিনটা সন্তানকে দেওয়াই সবচেয়ে বেশি জরুরি। এদিন সন্তানকে নিয়ে বেড়াতে যেতে পারেন। সন্তানের প্রিয় কোন সিনেমা দেখতে পারেন একসঙ্গে বসে। কিংবা ওর প্রিয় কোন খাবার রান্না করতে পারেন। সারা সপ্তাহে সন্তানের পড়াশোনা, বন্ধু, স্কুল ও সহপাঠীদের সম্পর্কে নানা গল্প শোনার আবদার করুন।