গোলাম পরওয়ারসহ পাঁচ জন ফের রিমান্ডে, দুজনের স্বীকারোক্তি

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাজধানীর ভাটারা থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পাঁচজনের ফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।


রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন—জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত।

এছাড়া একই আদালত দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রবকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

একইদিনে মনিরুল ইসলাম ও আবুল কালাম নামে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

এদিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম আসামি মনিরুল ইসলাম ও আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আবুল কালামের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতে ভাটারা থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা রনপ কুমার এ তথ্য জানান।

এদিন দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক (নি.) কাজী ওয়াজেদ মিয়া রিমান্ডে থাকা ৯ আসামিকে আদালতে হাজির করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৫ জনের ফের ১০ দিনের রিমান্ড, দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং অপর দুই আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা মামলা সংক্রান্ত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে জানা যায়, এ ৫ আসামিসহ তাদের অন্যান্য সহযোগীরা ঘটনার দিন ও সময়ে ঘটনাস্থলে সমবেত হয়ে বর্তমান সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত, প্রজাতন্ত্রের ব্যক্তিসত্তা বা প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তারা বিভিন্ন উস্কানিমূলক লিফলেট তৈরি করে তা বিলি করে সাধারণ মানুষকে ধ্বংসাত্মক কাজে উদ্বুদ্ধ করেন বলে জানা যায়।

আবেদনে আরও বলা হয়, আসামিরা একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এরূপ ধ্বংসাত্মক কাজের মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় সরকার উৎখাতে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন এবং ষড়যন্ত্র করে প্রজাতন্ত্রের ব্যক্তিসস্তা এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধনে লিপ্ত ছিলেন। তারা সরকারকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারায় আর কী পরিকল্পনা করেছিলেন, পরিকল্পনার নেপথ্যে আর কে কে জড়িত, দেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার কাজে তারা কী ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন এবং এ ধরনের কাজে তাদের কোথা থেকে, কীভাবে অর্থসংস্থান হয়, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ। আসামিরা জননিরাপত্তা বিঘ্ন করে অবৈধ পন্থায় সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন উল্লেক করে ৫ আসামির ফের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর এই ৯ আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই মামলায় গত ১০ সেপ্টেম্বর সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং তার বাবুর্চি ইমাম হোসেনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ভাটারা এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জনকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, জামায়াতের নেতারা রাজধানীর ভাটারা থানাধীন এলাকার একটি বাসায় গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। বৈঠকে তারা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। এ ঘটনায় ভাটারা থানার এসআই হাসান মাসুদ মামলাটি দায়ের করেন।