এএসপি হত্যা: জাতীয় মানসিক হাসপাতালের রেজিস্ট্রার রিমান্ডে

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৫:৩৩ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০২০

চিকিৎসার নামে এএসপি আনিসুল করিমকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। সকালে ডা. মামুনকে গেপ্তারের পর দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে শেরেবাংলা নগর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে ডা. মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ১৩ জন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, এর আগে যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, তাদের দেয়া তথ্যে ডা. মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামুনের পরামর্শেই দালালের মাধ্যমে আনিসুলকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে নেয়া হয়।

উপ কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, আনিসুল করিম চিকিৎসা নিতে প্রথমে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ডা. মামুনের পরামর্শে তাকে আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে নেয়া হয়।

উপ কমিশনার হারুন আরো বলেন, ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল থেকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে রোগীর মোট বিলের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নিতেন। যেদিন আনিসুলকে মানসিক হাসপাতালে আনা হয়, সেদিন মামুন তাকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন। এরপর মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠান। এছাড়াও আনিসুল মারা গেলে ডা. মামুন মাইন্ড এইড হাসপাতালে গিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত জানার পরেও, জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে পাঠিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন এরকম নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন।

গত ৯ নভেম্বর সোমবার ঢাকার আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে মানসিক রোগের চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে মারা যান এএসপি আনিসুল করিম।

ঘটনার পর হাসপাতালের অ্যাগ্রেসিভ ম্যানেজমেন্ট রুমে আনিসুলকে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায় আনিসুলকে ৬ থেকে ৭ জন মাটিতে ফেলে চেপে ধরে আছেন, দুজন তকে কনুই দিয়ে আঘাত করছিলেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদও তখন পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মাথার দিকে থাকা ২জন হাতের কনুই দিয়ে আনিসুল করিমকে আঘাত করছিলেন। এ সময় একটি কাপড়ের টুকরা দিয়ে আনিসুল করিমের হাত পেছনে বাঁধা হয়। ৪ মিনিট পর তাকে যখন উপুড় করা হয়, তখনই ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। এ ঘটনায় সোমবার রাতে প্রথমে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আরো ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আনিসুলের মৃত্যুর পর তার বাবা ফাইজ্জুদ্দিন আহমেদ মোট ১৫ জনকে আসামি করে আদাবর থানায় হত্যা মামলা করেন।