চীনের ভ্যাকসিন অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে: ল্যান্সেট

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০

চীনের তৈরি আরেকটি ভ্যাকসিন মানবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। 

সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিনটি নিয়ে তৈরি করেছে বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস। সম্প্রতি ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চীনের তৈরি এই ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে দারুণ ফল দেখা গেছে। আঠারো থেকে ৮০ বছরের বেশি বয়সী স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরেও ভ্যাকসিনের ডোজে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

চীনের এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম ‘বিবিআইবিপি-করভি’। বেইজিং ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজিস্টরা জানিয়েছেন, গবেষণাগারে সার্স-কভ-২ ভাইরাসকে (নভেল করোনাভাইরাস) একেবারে নিষ্ক্রিয় করে এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট তৈরি হয়েছে। নিষ্ক্রিয় ভাইরাল স্ট্রেইন মানুষের শরীরে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। এই ভাইরাল স্ট্রেইন শরীরে ঢুকে বিভাজিত হতেও পারবে না।

মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যাকসিনটি পরীক্ষা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের দুটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। প্রথম দলে ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের ৮ মাইক্রোগ্রাম ভ্যাকসিনের ডোজ দিয়ে শূন্য থেকে ২৮ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। অন্যদিকে, ৬০ বছর থেকে ৮০ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দিষ্ট মাত্রায় ভ্যাকসিনের দুটি শট দিয়ে শূন্য থেকে ৪২ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

দেখা যায়, দুই দলের স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরেই পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তবে ৮০ বছরের বেশি বয়সীদের ৪২ দিন পর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। সেইসঙ্গে সক্রিয় হয়েছে ‘টি-লিম্ফোসাইট’ কোষ। গবেষকদের দাবি, ভ্যাকসিনের ডোজে ‘সাইটোটক্সিক সিডি৮-পজিটিভ টি কোষ’ সক্রিয় হয়েছে। এ ধরনের টি-কোষ সংক্রামক প্যাথোজেন থাকা কোষকে নষ্ট করে দিতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সারা বিশ্বে ৪০ টিরও বেশি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।