দৈত্যাকার ঝিনুক মাশরুমে স্বপ্ন দেখছেন বাস্তুচ্যুত সিরিয়ানরা

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৭, ২০২২, ০৪:৪৪ দুপুর
আপডেট: জানুয়ারী ১৭, ২০২২, ০৪:৪৪ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার আলেপ্পো গভর্নরেটের গ্রামাঞ্চলে আল-আমাল খামার। সেখানে প্রতি সপ্তাহে ৩০০ কেজি ঝিনুক মাশরুম উৎপন্ন হয়। প্রতি কেজি মাশরুম বিক্রি হয় ১.৩৫ ডলারে। কম দামি হওয়ার কারণে ক্রেতারা একে মাংসের বিকল্প হিসেবে ভাবা শুরু করেছেন।

এ খামারের অধিকাংশ কর্মী মূলত এসেছেন দেশটির পূর্ব ঘৌটা থেকে। এ অঞ্চলে সরকারি বাহিনী অবরোধ দেওয়ার পর থেকে এখানকার মানুষ কীভাবে মাশরুম চাষ করতে হয় তা শিখেছিলেন।


সে অঞ্চল থেকে সিরিয়ার উত্তরে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর অনেক কর্মী মাশরুম নিয়ে লাভজনক প্রকল্প তৈরি করতে নিজেদের পূর্বের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেন। যা তরুণদের জন্য কাজের সুযোগও তৈরি করেছে।

মাহমুদ জোহা। তিনি ওই খামারে কাজ করেন। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে তিনি বলেন, ‘পূর্ব ঘৌটায় অবরোধের সময় মাশরুম চাষের বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম এবং ছোট পরিসরে আমার বাড়িতে এর চাষ শুরু করি।’

‘এর পর আমি বাস্তুচ্যুত হই। পরে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম, উত্তর সিরিয়ায় মাশরুম উৎপাদনে আমাদের নিজস্ব প্রকল্প শুরু করার’, যোগ করেন মাহমুদ। 

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রথমে সামান্য কিছু মাশরুমের বীজ কেনার পর তা রোপণ করি। এটি ছিল মূলত পরীক্ষামূলক। আমাদের প্রকল্প কতটুকু সফল হবে এবং বাজারে কী পরিমাণ সরবরাহ করতে পারব সেটি দেখতে চেয়েছিলাম আমরা। সৌভাগ্যক্রমে আমাদের প্রকল্প সফল হলো। ফলে আমরা এর পরিধি বাড়িয়েছি।

ওই খামারের অপর এক কর্মী মুহাম্মদ বাকদশ। যিনিও পূর্ব ঘৌটা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বীজের ইনকিউবেশন সময়কাল বিশ দিন পর্যন্ত। এ মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে ঝিনুক মাশরুমের অঙ্কুরোদগম শুরু হয়। এর আগে বীজ রোপণের জন্য অনুসরণ করতে হয় নানা প্রক্রিয়া।’

২০১৩ সালে পূর্ব ঘৌটায় নাওয়াত সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক স্টাডিজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রতিষ্ঠান সেখানকার মানুষদের কীভাবে মাশরুম চাষ করতে হয় তা শেখায়।

মাশরুম শুধুমাত্র একটি খাদ্য নয়, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে এবং আসবাবপত্রে কাঠের বিকল্প হিসেবে এর ব্যবহার করা যেতে পারে।

খামারে মাশরুম চাষে সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে বাস্তুচ্যুত বহু সিরিয়ান স্বপ্ন দেখছেন নতুন করে জীবন শুরু করার।

২০১১ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়ায় সংঘাত লেগে আছে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো নিজেদের শক্তি পরীক্ষায় নেমেছে সেখানে। ফলে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অগুনতি বেসামরিক নাগরিক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়