রাশিয়াকে থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর চেষ্টা

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১২, ২০২২, ১০:১০ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ১২, ২০২২, ১০:১০ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

গত কয়েকমাস ধরে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে প্রায় এক লাখ সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এই অবস্থায় রাশিয়া আবারও ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে কিংবা ঢুকে যেতে পারে এই আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করছে।
সোমবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে রাশিয়া। আজ বুধবার ব্রাসেলসে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা হবে। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা হতে যাচ্ছে। রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সাণ্ডার গ্রাশকো ও উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলেক্সাণ্ডার ফোমিন আলোচনায় অংশ নেবেন। আলোচনার সময় ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদরদপ্তরে মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন্ডি শারমান উপস্থিত থাকবেন।
২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া দখল করে রাশিয়া। তখনও ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া না দেখানোয় রাশিয়া ক্রাইমিয়া দখল করতে সমর্থ হয়েছিল বলে মনে করেন পেন্টাগনের সেই সময়কার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিম টাউনসেন্ড। বর্তমানে তিনি সেন্টার ফর এ নিউ অ্যামেরিকান সোসাইটির সিনিয়র ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। পেন্টাগনের পর টাউনসেন্ড ওবামা প্রশাসনের ডেপুটি অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি অফ ডিফেন্স হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ওবামা প্রশাসনের আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত ছিল।
বুধবার ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনায় ন্যাটোর লক্ষ্য থাকবে ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো। বিনিময়ে ন্যাটো তার কার্যক্রম আরও পুবে সরাবে না, এই নিশ্চয়তা চাইবে রাশিয়া। এছাড়া ন্যাটো ইউরোপ থেকে তাদের সেনা ও অস্ত্রসংখ্যা কমাবে এবং ইউক্রেন কখনও ন্যাটোর সদস্য হবে না, এই নিশ্চয়তাও চায় রাশিয়া। ইউক্রেন বর্তমানে ন্যাটোর পার্টনার দেশ হিসেবে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো ইতিমধ্যে ন্যাটোর সদস্যপদের উপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি কৌশলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বুধবারের আলোচনা থেকে অনেককিছু আশা করছেন না ন্যাটোর প্রধান ইয়েন্স স্টলটেনব্যার্গ। তিনি বলেছেন, বুধবারের বৈঠকে যদি ভবিষ্যতে আরও আলোচনা চালিয়ে যেতে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায় তাহলে সেটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া হবে।
সোমবার হয়ে যাওয়া ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনাকে দুই পক্ষই গঠনমূলক বলেছে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। ন্যাটোর সঙ্গে কথা বলার পর বৃহস্পতিবার অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যাণ্ড কোঅপারেশন ইন ইউরোপের সঙ্গে আলোচনা করবে রাশিয়া।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়