মাদার তেরেসার দাতব্য সংস্থার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত বদল ভারতের

প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৯, ২০২২, ১১:৩১ রাত
আপডেট: জানুয়ারী ০৯, ২০২২, ১১:৩১ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

মাদার তেরেসার প্রতিষ্ঠিত দাতব্য সংস্থায় বিদেশি অনুদান পাওয়ার লাইসেন্স স্থগিত করেছিল ভারত সরকার। এখন সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে তারা। অর্থাৎ সংস্থাটি আগের মতোই বিদেশি অর্থ পাবে। মিশনারিজ অব চ্যারিটি নামের ওই সংস্থাটি ভারতে পরিত্যক্ত শিশুদের জন্য হোম ছাড়াও অনেক স্কুল ও হাসপাতাল পরিচালনা করছে। শনিবার (৮ জানুয়ারি) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, যেসব বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদেশি অনুদান পায় দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের বিদেশি অনুদান পাওয়ার ছাড়পত্র ৩১ মার্চ, ২০২২ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল মাদার তেরেসার মিশনারিজ অব চ্যারিটি।
সংস্থাটির অ্যাকাউন্ট জব্দ করারও অভিযোগ উঠেছিল। যদিও শনিবার সেই তালিকায় মাদার তেরেসার সংস্থাকে ফেরানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দুই সপ্তাহ পড়ে বিদেশি অনুদান পাওয়ার যোগ্যতার তালিকায় ফেরানো হলো পৃথিবীর বিখ্যাত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটিকে। শনিবার এফসিআরএয়ের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে মিশনারিজ অব চ্যারিটির নাম।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর সংস্থাটির এফসিআরএ লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর চরম অস্বস্তিতে পড়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুনর্বিবেচনায় সেই সমস্যার সমাধান হলো।
মাদার তেরেসার সংস্থার ছাড়পত্র বাতিল হওয়ার পরই কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। এদিন ছাড়পত্র ফেরানোর পর মোদী সরকারকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন।
যদিও অ্যাকাউন্ট জব্দ নিয়ে মুখ খোলার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা জানিয়েছিল মিশনারিজ অব চ্যারিটি। তারা জানায়, সরকার তাদের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেনি। বরং সংগঠনের পক্ষ থেকেই সব শাখাকে বিদেশি মুদ্রা সংক্রান্ত লেনদেন বন্ধ রাখতে বলা হয়।
মেসিডোনিয়া থেকে আসা রোমান ক্যাথলিক মাদার তেরেসা ১৯৫০ সালে কলকাতাভিত্তিক এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ক্যাথলিকদের সাহায্য সংস্থার মধ্যে এটি বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে সুপরিচিত একটি সংস্থা।
মানবিক কার্যক্রমের জন্য ১৯৭৯ সালে নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছিলেন মাদার তেরেসা। তার মৃত্যুর ১৭ বছর পর ২০১৬ সালে পোপ ফ্রান্সিস তাকে ‘সেইন্ট বা সন্ত’ ঘোষণা করেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়