আমিরাতের পক্ষে লবিং, ট্রাম্পের মিত্র গ্রেপ্তার

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ১১:৩৫ এএম, ২১ জুলাই ২০২১


বিদেশিদের হয়ে লবিংয়ের দায়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ধনকুবের টম ব্যারাককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জুলাই) মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় (ডিওজে) এমন তথ্য দিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

গ্রেপ্তার টম ২০১৬ সালে ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনার কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বার্থ এগিয়ে নিতে অবৈধ তদবিরের দায়ে নিউইয়র্কের কেন্দ্রীয় আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মার্ক লেসকো বলেন, বিবাদী বারবার ব্যারাকের বন্ধুত্বকে পুঁজি করে সুবিধা আদায় করেছেন এবং এমন একজন প্রার্থীর কাছে গিয়েছিলেন, যিনি পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া উচ্চপদস্থ প্রচার ও সরকারি কর্মকর্তাদেরও বাগে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। সত্যিকারের আনুগত্য স্পষ্ট করা ছাড়াই একটি বিদেশি সরকারের নীতিকে এগিয়ে নিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমকেও হাত করা হয়েছিল।
ব্যারাকের বিনিয়োগ কোম্পানির কর্মী ম্যাথিও গ্রিমেস (২৭) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক রশিদ আল-মালিকের (৪৩) বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্যারাকের সাবেক ব্যবসায়িক সহযোগী ছিলেন রশিদ।
মার্কিন সরকার বলছে, ট্রাম্পের এই মিত্র গোপনে আমিরাত সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন। তবে ব্যারাক দোষ স্বীকার করে কোনো স্বীকারোক্তি দেননি।
ব্যারাক শুরু থেকেই তদন্তে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন তার এক মুখপাত্র। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে এগিয়ে নিতে রশিদ আল-মালিককে আমিরাতের ‘গোপন অস্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প মিত্র। আর আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করেছেন রশিদ।

২০১৬ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনের পর রশিদকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে একটি ‘প্রত্যাশার তালিকা’ তৈরি করতে বলেছিলেন টম ব্যারাক। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আমিরাত সরকারের চাওয়া-পাওয়ার একটি তালিকা তৈরি করতে বলেছিলেন তিনি।
২০১৭ সালে হোয়াইট হাউসে আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের মতামত মার্কিন কর্মকর্তাদের দিতে সম্মত হয়েছিলেন এই ধনকুবের। একই বছরের সেপ্টেম্বরে কাতারের বিরুদ্ধে আমিরাত ও সৌদির অবরোধের নিষ্পত্তিতে ক্যাম্প ডেভিডে প্রস্তাবিত সম্মেলনের আয়োজনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ব্যারাক।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, আমিরাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগে নিরাপদ ম্যাসেজিং অ্যাপের একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন ট্রাম্পের এই মিত্র। যে মোবাইলটি দিয়ে তিনি কেবল আমিরাত কর্মকর্তাদের সঙ্গেই কথা বলতেন। ২০১৭ সালে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে কার্যকর তথ্য পেতে আমিরাতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রশিদকে হাজার হাজার ডলার দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের সম্পর্ক নিয়ে মুয়েলারের তদন্তে মার্কিন কৌঁসুলিদের জেরার পর যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে আমিরাতে ফিরে যান রশিদ। এ ঘটনায় ২০১৯ সালে ব্যারাককেও তদন্ত করেছিল এফবিআই।