মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচার শুরু হচ্ছে আর্জেন্টিনায়

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ১০:০৯ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১

রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগ। এটাকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন নিপীড়িত রোহিঙ্গা এবং তাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে নিয়োজিতরা।
দেশটির আদালত বলেছেন, বিশ্বের যে কোনো স্থানে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তার বিচার যে কোনো দেশেই হতে পারে। যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস রোববার এ খবর দিয়েছে।
বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকের (বিআরওইউকে) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৬ নভেম্বর বুয়েনাস আয়ার্সের ফেডারেল ফৌজদারি আদালতের দ্বিতীয় চেম্বার নিশ্চিত করেছে, তারা সর্বজনীন এখতিয়ারের নীতির অধীনে মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার বিচার শুরু করবে।
বিআরওইউকে ২০১৯ সালের নভেম্বরে আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগের কাছে দেশটির তৎকালীন সেনাপ্রধান এবং বর্তমান সেনাশাসক মিন অং হ্লাইংসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ মামলার আবেদন করেছিল। বিআরওইউকের প্রেসিডেন্ট তুন খিন বলেন, এটি শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বরং সব স্থানের নির্যাতিত মানুষের জন্য একটি আশার দিন। আর্জেন্টিনার এ সিদ্ধান্তে প্রমাণ হয়, যারা গণহত্যা ঘটায়, তাদের লুকানোর কোনো জায়গা নেই। বিশ্ব এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
বাদীদের আইনজীবী টমাস ওজিয়া কুইন্তানা বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের জবাবদিহি ও শাস্তির জন্য তারা সুনির্দিষ্ট ফলাফল প্রত্যাশা করছেন। গণহত্যায় জড়িতদের নাম প্রকাশ্যে আনা এবং আর্জেন্টিনায় তাদের বিচারের চেষ্টা করবেন তারা। ওই আইনজীবী জানান, ২০১৭ সালের গণহত্যায় জড়িত মিন হদ্মাইংসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের সশরীরে সাক্ষ্য নেওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।
পদত্যাগের পর আবারও ফিরলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
পদত্যাগের পর আবার ফিরে এসেছেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতির জের ধরে তিনি গত সপ্তাহে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেছিলেন।
সোমবার নতুন করে পার্লামেন্টে ভোট হলে তাতে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি নেতা মিজ অ্যান্ডারসন অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
তিনি আগামী বছর সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত একক দলের সরকারের নেতৃত্ব দিতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে তার জোট সরকার ভেঙ্গে গেলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
তার কয়েক ঘণ্টা আগেই মিজ অ্যান্ডারসন মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
কিন্তু ৫৪ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদ গ্রিন পার্টির সাথে মিলে যে জোট সরকারের চেষ্টা করেছিলেন তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় মূলত তার বাজেট প্রস্তাবনা পাস করতে না পারার কারণে। এর পরিবর্তে ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটসহ একদল বিরোধী সদস্যের প্রস্তাবিত বাজেট পাস করেছিল পার্লামেন্ট।
গ্রিন পার্টি বলেছিল যে, তারা 'প্রথমবারের মত কট্টর ডানপন্থীদের উত্থাপিত বাজেট' মেনে নিতে পারছে না। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সুইডেনে জোট সরকার থেকে কোন দল বেরিয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে থাকেন।
সোমবার পার্লামেন্টে যে ভোট হয়েছে তাতে ৩৪৯ সদস্যের মধ্যে ১০১ জন হ্যাঁ ও ১৭৩ জন না ভোট দেন। তবে ভোটদানে বিরত ছিলেন ৭৫ জন।
সুইডেনে নিয়ম অনুযায়ী একজনকে প্রধানমন্ত্রী হলে শুধুমাত্র নিশ্চিত করতে হয় যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তার বিপক্ষে নন।
ভোটের পর এক সংবাদ সম্মেলনে মিজ অ্যান্ডারসন বলেন, জনকল্যাণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরাধের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নিয়ে সুইডেনকে এগিয়ে নিতে তিনি প্রস্তুত।