শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করার প্রতিজ্ঞা করলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২১, ১১:৫৩ রাত
আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২১, ১১:৫৩ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করার প্রতিজ্ঞা করলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। শুক্রবার যুদ্ধের ময়দান থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ প্রতিজ্ঞার কথা জানান। এদিকে দেশটিতে বছরব্যাপী সংঘাত চলায় ব্যাপক খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
টাইগ্রের বিদ্রোহীরা অঞ্চলটির অধিকাংশ এলাকা এরই মধ্যে দখলে নেওয়ার দাবি করেছে। দেশটির রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে ওই অঞ্চলের দূরত্ব ২২০ কিলোমিটার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেশটিতে সংঘাত বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের ইথিওপিয়া ছাড়তে বলেছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা ও সেনাদের নির্দেশনা দিতে বুধবার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ যুদ্ধের ময়দানে পৌঁছান।
২০১৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আবি সাক্ষাতকারে বলেন, টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনের বিষয়ে আমি নিশ্চিত। শত্রুদের নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত, ইথিওপিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে যাবো না।
তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী কাসাগিতার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে। আফার অঞ্চলের চিফরা জেলা ও বুরকা শহর পুনরুদ্ধার করারও পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। এ এলাকায় টিপিএলএফের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। ইথিওপিয়ার সেনাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো অবস্থান শত্রুদের নেই, আমরাই এ যুদ্ধে জয়ী হবো বলেও জানান আবি।
এর আগে ২ নভেম্বর ইথিওপিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। টাইগ্রের বিদ্রোহীদের আমহারা অঞ্চলের দুটি এলাকা দখলে নেওয়ার দাবি করার পর রাজধানী আদ্দিস আবাবার দিকে অগ্রসর হওয়ার শঙ্কায় এ ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। জনসাধারণকে রাজধানী রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়।
ছয় মাসের জন্য জরুরি অবস্থা কার্যকর করেছে দেশটির সরকার। ফলে রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সামরিক বাহিনী যেসব এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সেসব এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে। ঘর থেকে বের হলেই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছে দেশটির নাগরিকরা।
ইথিওপিয়া সরকার এক ঘোষণায় জরুরি অবস্থা জারির কারণ হিসেবে জানিয়েছে, সন্ত্রাসী টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট ( টিটিএলএফ) গ্রুপের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলের বিদ্রোহীদের সঙ্গে গত এক বছর ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়