গাদ্দাফিপুত্রের আপিল আটকাতে আদালতে হামলা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২১, ০৯:৫১ রাত
আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২১, ০৯:৫১ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিবিয়ার প্রয়াত শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম আল-গাদ্দাফির করা আপিলের শুনানি ঠেকাতে আদালতে বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির ঐকমত্যের সরকার নিন্দা জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ১৪ নভেম্বর সাইফ আল-ইসলাম আল-গাদ্দাফি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। গত বুধবার তাঁর মনোনয়নপত্রসহ ২৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপিল করতে হবে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর লিবিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
লিবিয়ার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করার যোগ্যতা হারিয়েছেন সাইফ আল-ইসলাম। ২০১৫ সালে তাঁর অবর্তমানে ত্রিপোলির একটি আদালত সাইফ আল-ইসলামের নামে আমৃত্যু কারাদণ্ড ঘোষণা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে গাদ্দাফির আমলে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ছিল।
নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপিল করতে হবে।
আগামী ২৪ ডিসেম্বর লিবিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গাদ্দাফি যুগের অবসানের পর লিবিয়াজুড়ে যে সংঘাত চলছে, এ নির্বাচনকে সেই সংঘাত থামানোর মাধ্যম মনে করা হচ্ছে।
আপিলের শুনানি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ‘বন্দুকের মুখে’ হামলাকারীরা আদালতের সব কর্মীকে ভবনের বাইরে বের করে দেয়।
খালেদ আল-জায়দি ,সাইফ আল-ইসলামের আইনজীবী
সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাইফ আল-ইসলামের আপিল করার কয়েক ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার সকালে ‘এক দল দুর্বৃত্ত’ দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সেবহার আদালতে ‘জঘন্য’ হামলা চালায়। এতে আদালত কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হন।
সরকার এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র ও বিচারবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে।
সাইফ আল-ইসলামের আইনজীবী খালেদ আল-জায়দি বলেন, আপিলের শুনানি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ‘বন্দুকের মুখে’ হামলাকারীরা আদালতের সব কর্মীকে ভবনের বাইরে বের করে দেয়। লিবিয়ার গণমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এটি একটি বাধা।
এ ঘটনার পর জাতিসংঘে লিবিয়ার মিশন ইউএনএসএমআইএল ‘আতঙ্ক’ প্রকাশ করেছে। ইউএনএসএমআইএল টুইটারে জানিয়েছে, তারা নির্বাচন-সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানায়। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়া রক্ষা করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে।
যাচাই-বাছাই ও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি শেষে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হবে।
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরকারের পতন ঘটে ২০১১ সালে। বিদ্রোহীদের হাতে আটক হওয়ার পর গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে দেশটির বিভিন্ন পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ওই সময় সাইফ আল-ইসলাম প্রথমে পালিয়ে যান। পরে আটক করে তাঁকে কারাগারে রাখা হয়। পরে মুক্তি পান তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়