ভারতে এখন পুরুষের চেয়ে নারী বেশি: সরকারি সমীক্ষা

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ০৯:৫০ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২১

ভারতে প্রথমবারের মতো পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে নারী আছেন এক হাজার ২০ জন। পাশাপাশি দেশটিতে জন্মহার কমেছে।
বুধবার ভারতের জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষা-৫-এ (এনএফএইচএস-৫) এমন চিত্র উঠে এসেছে। খবর এনডিটিভি ও দ্য হিন্দুর।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনতাত্ত্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে ভারতে এক হাজার জন পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ছিল ৯২৭। ২০০৫-০৬ সালের সমীক্ষায় পুরুষ ও নারীর সংখ্যা সমান ছিল। ২০১৫-১৬ সালে তা কিছুটা কমে যায়। তখন নারী ও পুরুষের অনুপাত ছিল ৯৯১ :১০০০। এবারই প্রথম পুরুষদের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে নারী।
প্রথম পর্যায়ের সমীক্ষায় ২২টি প্রদেশ ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে জরিপ করা হয়েছিল। যার ফলাফল গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৪টি প্রদেশ ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে জরিপ করা হয়েছে, যার ফলাফল গত বুধবার প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনতাত্ত্বিক জরিপের দিকে লক্ষ্য করে আমরা বলতে পারি, উন্নত দেশ হওয়ার পথে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। নারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া মানে তাদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য রোধসহ ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এনএফএইচএস-৫-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গত চার বছরে ভারতে জন্মহার কমেছে। ২০১৫-১৬ সালের জরিপে জন্মহার ২ দশমিক ২ উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২০১৯-২০২১ সালের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, তা কমে ২-এ এসে দাঁড়িয়েছে। তবে সার্বিক জন্মহার কমলেও ছেলেশিশুর তুলনায় মেয়ে শিশুর জন্ম অনেক বেড়েছে।
সমীক্ষা বলছে, ভারতের অধিকাংশ প্রদেশেই জন্মহার ২ বা তার নিচে রয়েছে। তবে এখনও মণিপুর ও মেঘালয়ে জন্মহার বেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অন্যতম কারণ গত চার বছরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার বাড়ানো হয়েছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এ সময়ে আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহারের হার ৫৪ থেকে বেড়ে ৬৭ হয়েছে।
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের প্রধান ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বিকাশ শীল বলেন, পুরুষ ও নারীর অনুপাত এবং তাদের জন্মহারের অনুপাত যে ভালো হয়েছে, তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর অর্থ হচ্ছে, নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের পদক্ষেপগুলো সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে।